নিতাই দে, আগরতলা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরাতে জ্বালানি সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা সরকার। 

 

মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য আংশিক “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

 

বুধবার রাতে মহাকরণে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক-সহ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে থাকা গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দেন। 

 

এতদিন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি-সহ মোট সাতটি গাড়ি থাকলেও, এখন তা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে। একইভাবে, রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের কনভয়ও তিনটি গাড়ি থেকে কমিয়ে দু'টি করা হয়েছে। 

 

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। 

 

অন্যদিকে, সরকারি দপ্তরগুলিতে অফিস চলাকালীন সময়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫০ শতাংশ কর্মচারী বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করবেন। 

 

এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানদের সপ্তাহভিত্তিক রোস্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম সপ্তাহের রোস্টার প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অফিসের নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারী কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। 

 

যেসব কর্মচারী বাড়ি থেকে কাজ করবেন, তাঁদের টেলিফোন ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বক্ষণ যুক্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে অফিসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়। 

 

রাজ্য সরকারের সাধারণ প্রশাসন (প্রশাসনিক সংস্কার) দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার অধিগৃহীত সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা, স্বশাসিত সংস্থা এবং অন্যান্য অধীনস্থ অফিসগুলির ক্ষেত্রেও অনুরূপ নির্দেশ জারি করতে বলা হয়েছে। তবে জরুরি পরিষেবামূলক দপ্তরগুলি এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকবে। এই নির্দেশিকা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।