আজকাল ওয়েবডেস্ক: খারাপ উপাদান দিয়ে কেক এবং ডোনাট তৈরির অভিযোগে একটি বেকারিতে হানা দিল পুলিশ। ঘটনিাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের কাতেদানে এলাকায়। এলাকার একটি খাদ্য উৎপাদন কারখানায় অনেক দিন ধরেই খারাপ উপাদান দিয়ে খাবার তৈরির অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ওই বেকারিতে হানা দেয় পুলিশ। বেআইনি ওই বেকারিতে ভেজাল রং, ক্ষতিকর ফ্লেভার এবং পচা ডিম সঙ্গে খারাপ উপকরণ দিয়ে খাবার বানানোর অভিযোগ পেয়েছিলেন তারা। পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখে বেকারিটিতে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পচা ডিম এবং সোডিয়াম বেনজয়েত, সরবিক অ্যাসিড ও পিজিআরপি তরলের মত বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে ডোনাট বান ও কেক তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেজাল পণ্যকে আসল বলে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এদিন ওই বেকারিতে হানা দিয়ে পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। 

পুলিশ সূত্রে খবর, যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরাই বেকারিটি চালাচ্ছিলেন। ধৃতরা হলেন বেকারির সুপারভাইজার ও কাতেদানের বাসিন্দা আফ্রিদি আনসারি (২২)। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। ম্যানেজার ও কাতেদানের ইন্দ্র সোসাইটির বাসিন্দা ইয়াসিন (৩২)এবং বান্দলাগুড়া চন্দ্রায়ান গুত্তার বাসিন্দা খাত্রেশান। 

পুলিশ বেকারিতে বিপুল পরিমাণে পচা ডিম, রাসায়নিক দ্রব্য, বেকারি পণ্য, ভেজাল রং উদ্ধার হয় কারখানা থেকে। পুলিশ কারখানার যন্ত্রপাতি সিল করে দেয়। বেআইনি বেকারির বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। বেকারিটি বন্ধ করে দেওয়ার হয়েছে।    

এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে অনেকেই মন্তব্য করে বেকারির মালিকের নামও প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আরও দাবি, ধৃতদের অন্য কোনও ব্যাবসায়িক স্বার্থ ছিল কি না তাও তদন্ত করে দেখতে হবে। অনেকেই হায়দরাবাদ পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারণ পুলিশি হস্তক্ষেপের কারণে হাজার হাজার মানুষকে খারাপ খাবারের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। আরও একজন পুলিশকে অনুরোধ করেছেন যে, এলাকায় অনেক বিস্কুট ও ফুড প্রসেসিং কারখানা রয়েছে। দয়া করে সমস্ত খাদ্য কারখানা বা বেকারি পরিদর্শন করুন। সঙ্গে লিখেছেন দোষীদের সমস্ত সম্পতি বাজেয়াপ্ত করুন এবং তাঁদের যেন জেল হয়।