আজকাল ওয়েবডেস্ক: দশ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর নাটক আর ম্যারাথন আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেরলের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভি.ডি. সতীশনের নাম ঘোষণা করল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ-এর বিপুল জয়ের পর থেকেই দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে কে বসবেন মসনদে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। দিল্লির নির্দেশে শেষ পর্যন্ত কে.সি. বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথালার মতো হেভিওয়েট নেতাদের সরিয়ে কেরলের দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হল দলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ এবং ছয়বারের বিধায়ক সতীশনের হাতেই।

দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করে জানান যে, গত ৭ মে তিরুবনন্তপুরমে নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে নেতা নির্বাচনের ভার কংগ্রেস সভাপতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দলের অন্দরে তীব্র লবিং চললেও শেষ পর্যন্ত সতীশনের জনপ্রিয়তার কাছেই মাথা নত করতে হয়েছে হাইকমান্ডকে। যদিও শোনা যাচ্ছিল যে বিধায়কদের বড় অংশের সমর্থন ছিল এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক কে.সি. বেণুগোপালের দিকে, কিন্তু ২০২১ সালের বিপর্যয়ের পর যেভাবে সতীসান মাটি কামড়ে পড়ে থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছেন, তা উপেক্ষা করার ক্ষমতা কারোর ছিল না। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস জোটকে ১০২টি আসনে জয়ী করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে থাকা কে.সি. বেণুগোপাল নির্বাচনে নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ছিলেন প্রবল দাবিদার। তবে সতীসানের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলের ঊর্ধ্বে তিনি কেউ নন এবং কর্মীদের ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়েই তিনি হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করছেন। লড়াকু এই নেতা জানিয়েছেন, তাকে নিয়ে সমালোচনা চললেও তিনি দলের স্বার্থেই কাজ করে যাবেন।

৬১ বছর বয়সী ভি.ডি. সতীশন কেরল রাজনীতিতে এখন এক অপরাজেয় নাম। ২০০১ সাল থেকে এরনাকুলামের পারাভুর কেন্দ্র থেকে টানা ছয়বার জিতে আসা সতীসান তাঁর বর্ণময় রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে। ১৯৮৬-৮৭ সালে মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে এনএসইউআই-এর সচিব পদেও কাজ করেছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে নিজের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় দেখলেও তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

২০২১ সালে যখন কেরলে বাম ঝড়ে কংগ্রেস ধরাশায়ী হয়েছিল, তখন রমেশ চেন্নিথালাকে সরিয়ে সতীশনকে  বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে পিনারাই বিজয়ন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন এবং বিধানসভায় ধারালো যুক্তির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিকল্প মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে কোনও  বিশেষ মুখকে সামনে না রাখলেও, দলের নিচুতলার কর্মীদের কাছে সতীশনই  ছিলেন অঘোষিত সেনাপতি। সেই পরিশ্রমের পুরস্কার হিসেবেই এবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন এই দুঁদে সংগঠক ও সুবক্তা। তাঁর এই উত্থান কেরল কংগ্রেসে নতুন এক যুগের সূচনা করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।