আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভয়াবহ ধুলোঝড়। সেই ঝড়ের দাপটেই ডিগবাজি খেয়ে আকাশে উড়ে গেলেন এক যুবক। মাটিতে পড়তেই তাঁর ভয়ঙ্কর পরিণতি। শিউরে ওঠা সেই দৃশ্য এবার প্রকাশ্যে। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বরেলির ভামোরায়। ঝড়ের দাপটে আকাশে উড়ে যান যুবক। এরপর ৩০০ মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। মাটিতে পড়তেই তাঁর দুই পা ও দুই হাত ভেঙে গিয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। 

 

পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের নাম, নানহে মিঞা। বাবিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা তিনি‌। গতকাল ঝড়ের দাপট বাড়তেই এক বিয়েবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ আরও বেড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে একটি টিনের শেড আঁকড়ে ধরেছিলেন। তখনই ঝড়ের দাপটে টিনের শেড সুদ্ধ তিনি উড়ে যান। 

">  

 

সকাল আটটা থেকে রাত সাড়ে ১১টা। টানা সাড়ে ১৫ ঘণ্টা প্রবল ঝড়বৃষ্টি, সঙ্গে ধুলোঝড়। কয়েক ঘণ্টার ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে রীতিমতো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল উত্তরপ্রদেশ। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুমিছিল। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার তুমুল ঝড়বৃষ্টির জেরে কমপক্ষে ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে আরও ৫৩ জন আহত হয়েছেন। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১১৪ পশুও মারা গেছে এই দুর্যোগের আবহে। 

 

প্রশাসনের তরফে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজ। এখানে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সন্ত রবিদাস নগরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, ফতেহপুরে ১১ জনের মির্জাপুরে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির তালিকায় রয়েছে উন্নাও, বাদাউন, বরেলি, প্রতাপগড়। 

 

দিনভর ভারী বৃষ্টি, তুমুল ঝড়, ধুলোঝড়ের জেরে বহু বাড়ি ধসে পড়েছে। উপড়ে পড়েছে প্রচুর গাছ, বিদ্যুতের খুঁটিও। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলেরও। অধিকাংশ প্রাণহানিই হয়েছে দেওয়াল ধসে, গাছ উপড়ে পড়ে এবং বজ্রাঘাতে। 

মৌসম ভবন জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরেই উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ তুমুল বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

 

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্যোগে নিহতদের পরিবার পিছু ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ত্রাণের সামগ্রী পৌঁছে যাবে। 

 

ভাদোহির প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বজ্রপাত, তুমুল ঝড়বৃষ্টির কারণে বহু জায়গায় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বহু বাড়িও ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। একাধিক জায়গায় মোবাইলে নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হয়েছে। যেকারণে উদ্ধারকাজেও দেরি হচ্ছে। 

 

ভাদোহি পুলিশ জানিয়েছে, দুটি পৃথক জায়গায় ভয়াবহ ধুলোঝড়ের খবর পাওয়া গেছে। এর জেরে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কমপক্ষে ছ'জন আহত হয়েছেন। দু'জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফতেহপুরেও আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে পাঁচজন মহিলা রয়েছেন। 

 

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাকি জেলাগুলিতেও ধুলোঝড়ের খবর পাওয়া গেছে। দমকা ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ চাপা পড়েও অনেকে আহত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, আজও জেলায় জেলায় পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার। ফসলের যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।