আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'কোরিয়ান গেম মেয়েদের জীবন কেড়ে নিল৷' চলতি সপ্তাহের বুধবার গাজিয়াবাদে হাড়হিম এক ঘটনা ঘটে৷ আবাসনের ন তলা থেকে তিন বোন পরপর ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়৷ মৃত তিন কিশোরীর বাবার দাবি, ‘কে-কালচার’-এর নেশাই তাঁর মেয়েদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার ভোর রাত ২টো নাগাদ গাজিয়াবাদের ভারত সিটি টাউনশিপে এই ঘটনাটি ঘটে৷ তিন বোন নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২)-র।
পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে আট পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে মৃত কিশোরীরা জানিয়েছে, কোরিয়ান গেম এবং তাদের সংস্কৃতির প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসার কথা। একই সঙ্গে অভিযোগ, তাদের বাবা-মা ক্রমাগত তাদের এই সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, কিশোরীরা নিজেদের নাম বদলে রেখেছিল মারিয়া, আলিঁজা এবং সিন্ডি। এমনকী সমাজমাধ্যমে কোরিয়ান নামে তাদের বিপুল জনপ্রিয় বেশ কিছু অ্যাকাউন্টও ছিল।
মেয়েদের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা চেতন কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘কোরিয়ান সংস্কৃতি আমার মেয়েদের মেরে ফেলল।’’ তাঁর দাবি, গত তিন-চার বছর ধরে তাঁর মেয়েরা কোরিয়ান ড্রামা এবং ভিডিও-র নেশায় কার্যত বুঁদ হয়ে থাকত। চেতনবাবুর কথায়, ‘‘ওরা নিজেদের কোরিয়ান পরিচয় তৈরি করেছিল। সারাক্ষণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য জেদ করত। ভারতীয় কোনও কিছুর নাম শুনলেই ওরা রেগে যেত। শুধু তাই নয়, এমনকী ভারতীয় খাবার খেতেও অস্বীকার করত। ওরা বলত, কোরিয়া যেতে না পারলে মরে যাবে।’’
একাধিকবার বারণ করা সত্ত্বেও কাজ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘মোবাইল কেড়ে নিলে ওরা খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিত। যে রাতে ঘটনাটি ঘটল, সেদিনও রাত ১২টা পর্যন্ত ওরা মোবাইলে মগ্ন ছিল। সরকারের উচিত কোরিয়ান সংস্কৃতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা।’’
এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, পেশায় শেয়ার ব্যবসায়ী চেতনবাবুর প্রায় ২ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। অতিমারি-পরবর্তী সময়ে ঋণের বোঝার কারণেই তাঁর মেয়েরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে চেতনবাবুর দাবি, এই ঋণের সঙ্গে মেয়েদের আত্মহত্যার কোনও সম্পর্ক নেই। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, চেতনবাবুর দুই স্ত্রী। প্রথম পক্ষের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে এবং দ্বিতীয় পক্ষের তিন মেয়ে ছিল তাঁর। মঙ্গলবার রাতে সেই তিন মেয়েই চরম পথ বেছে নেয়।
