আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেরালার নাম ইংরেজি রূপ “Kerala” থেকে মালয়ালম উচ্চারণভিত্তিক “Keralam” করার প্রস্তাব এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিবেচনায়। রাজ্যের আইনসভা ইতিমধ্যে দু’দফা প্রস্তাব পাশ করে কেন্দ্রকে সংবিধান সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত সব ভাষায় রাজ্যের নাম “Keralam” হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী প্রথম তফসিলে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হবে।


এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ২০২৪ সালে বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করে তিনি বলেন, মালয়ালম ভাষায় রাজ্যটির নাম কেরালাম, কিন্তু সংবিধানের প্রথম তফসিলে ইংরেজি রূপ কেরালা লেখা রয়েছে, যা রাজ্যের ভাষাগত ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজ্যের প্রকৃত নামকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিত এবং সব স্বীকৃত ভাষায় একই নাম থাকা প্রয়োজন।


প্রথম প্রস্তাবের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কিছু কারিগরি সংশোধনের পরামর্শ দেয়। সেই অনুযায়ী সংশোধিত প্রস্তাব ২৫ জুন, ২০২৪-এ ফের বিধানসভায় পাশ হয় এবং তা পুনরায় কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার নিজেদের প্রশাসনিক নথিতে কেরালাম ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে, তবে জাতীয় স্তরে সাংবিধানিক সংশোধন না হলে তা সম্পূর্ণ কার্যকর হবে না।


কেরালায় ১৪০টি আসনে বিধানসভা নির্বাচন মে মাসের আগেই হওয়ার কথা। যদিও এখনও ভোটের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করেনি ভারতের নির্বাচন কমিশন।তবু নির্বাচনের আগে এই প্রস্তাব রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শাসক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এই উদ্যোগকে ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে।


উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ইস্যুতে রাজ্যে বিরল সর্বদলীয় সমর্থন দেখা গেছে। কেরালা বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর চিঠির জবাব দেওয়ার জন্য এবং এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, কেরালাম নামটি রাজ্যের ইতিহাস, ভাষা ও সাংস্কৃতিক শিকড়কে যথাযথভাবে তুলে ধরে।


এদিকে, প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে মন্ত্রিসভায় উঠছে, যখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন কার্যালয় সেবা তীর্থ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি বৈঠক হয়েছিল সাউথ ব্লকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। নতুন প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় এই বৈঠক হওয়াও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

 

&t=122s
সমর্থকদের দাবি, কেরালাম নামটি কেবল ভাষাগত সংশোধন নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে মালয়ালমভাষী জনগোষ্ঠীর ঐক্যের আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ভারতের একাধিক রাজ্য ও শহর স্থানীয় ভাষা ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাতে নাম পরিবর্তন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় কেরালার ক্ষেত্রেও একই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পুনরুদ্ধার হিসেবেই দেখা হবে।