আজকাল ওয়েবডেস্ক: থানেতে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হল এক যুবককে। মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় তাঁকে ট্রেন থেকে ধাক্কা মারে ছিনতাইকারী। চাকায় পিষে একটি পা চলে যায় যুবকের। মর্মান্তিক এই ঘটনায় হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে।
পুলিশ সূত্রের খবর, গত ১৮ জানুয়ারি রাতে থানে থেকে বদলাপুর যাওয়ার জন্য লোকাল ট্রেনের ভ্যাণ্ডার কামরায় উঠেছিলেন রিতেশ রাকেশ ইউরুঙ্কর (৩০)। খবর অনুযায়ী, তিনি থানের একটি মলে কাজ করেন। রাত পৌনে বারোটা নাগাদ ট্রেনটি যখন অম্বরনাথ স্টেশন ছাড়ছিল, তখন তাঁর পাশে বসে থাকা এক যুবক আচমকা রিতেশের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
রিতেশ বাধা দিলে শুরু হয় চরম ধস্তাধস্তি। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত যুবক তাঁকে সজোরে ধাক্কা মেরে ট্রেন থেকে দরজার বাইরে ফেলে দেয়। রেললাইনের ওপর ছিটকে পড়েন রিতেশ। চলন্ত ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তাঁর বাঁ পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাথায় এবং মুখেও গুরুতর আঘাত পান তিনি।
রেল পুলিশ তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মুম্বইয়ের কেইএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর কাটা পা-টি পুরোপুরি বাদ দিতে বাধ্য হন। আপাতত সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কৈলাস বালকৃষ্ণ যাদবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বন্ধুর সঙ্গে খেলতে যাওয়ার অনুমতি দেননি মা। সেই অভিমানে মহারাষ্ট্রের বিড জেলায় আত্মঘাতী হল মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোর। রবিবার মহারাষ্ট্রের বিড জেলার কাইজ এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত কিশোর নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ তার এক বন্ধু বাড়িতে এসে তাকে খেলতে যাওয়ার জন্য ডাকে। কিন্তু বাইরে তীব্র গরমের কারণে মা তাকে রোদে বেরোতে নিষেধ করেন। বিকেল ৪টের পর রোদের তেজ কমলে তাকে খেলতে যাওয়ার পরামর্শ দেন মা। আর তাতেই রাগে ফুসলিয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেয় কিশোর।
তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্ধুর সামনে মা খেলতে যেতে বারণ করায় কিশোর সম্ভবত অত্যন্ত অপমানিত ও ক্ষুব্ধ বোধ করেছিল। রাগের মাথায় সে বাবা-মায়ের শোওয়ার ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজেকে শেষ করার পথ বেছে নেয় সে।
ঘটনার সময় মা রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘক্ষণ ছেলের কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে দুপুর দেড়টা নাগাদ তিনি ওই ঘরের সামনে যান। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখে চিৎকার শুরু করেন তিনি। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। দেখা যায়, গলায় ফাঁস লাগানো দড়িটি ছিঁড়ে কিশোর অচেতন অবস্থায় মেঝের ওপর পড়ে রয়েছে।
দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কাইজের মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ৪০ কিলোমিটার দূরে আম্বাজোগাইয়ের সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই কিশোরের মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্তের পর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কাইজ থানার পুলিশ এই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
