আজকাল ওয়েবডেস্ক: মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট কেন বাঁকা! দেখেই রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চরম পদক্ষেপ শিক্ষকের। পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধর করে 'শাস্তি' দেন। যার জেরে ৩০ জনের বেশি পড়ুয়ার শরীরে কালশিটের দাগ পড়ে গেছে। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের লাতুরে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ক্রিস্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৩০ জন পড়ুয়া ও সহকর্মীদের চরম হেনস্থার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যার জেরে প্রায় সকলের শরীরে কালশিটে পড়ে যায়। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই শিক্ষকের মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটি সামান্য বেঁকে গিয়েছিল। যা দেখেই রাগে ফুঁসতে থাকেন তিনি। তাঁর সন্দেহ ছিল, পড়ুয়ারাই ইচ্ছাকৃতভাবে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটটি বেঁকিয়ে দিয়েছিল। এরপরই ৩০ জনের বেশি পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করেন। একাধিক পড়ুয়ার হাতে, পায়ে ভয়াবহ কালশিটের দাগ দেখা গেছে। 

স্কুলের প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম, উজ্জ্বল সোনি। শনিবার রাতে তিনি ক্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ প্রস্তুতি শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখেন, একদল পড়ুয়া হস্টেলের দিকে যাচ্ছে। সেখানেই তাঁর মোটরসাইকেলটি ছিল। কাছে গিয়ে দেখতে পান, নম্বরের প্লেটটি বাঁকা হয়ে গেছে। এমনকী মোটরসাইকেলটিও চালাতে পারছিলেন না। তখনই রাগের মাথায় পড়ুয়াদের মারধর করতে শুরু করেন। 

প্রিন্সিপাল আরও জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি পড়ুয়াদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছে। 

গত অক্টোবরে আরও এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। এক পড়ুয়ার শরীর জুড়ে একাধিক কালশিটে। নাবালক পড়ুয়াকে দেখেই আঁতকে উঠেছিল পরিবার। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চিকিৎসকরাও চমকে ওঠেন। এরপরই ফাঁস হয় বেসরকারি এক স্কুলের প্রিন্সিপালের নির্যাতনের কাহিনি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ন'বছর বয়সি এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এক বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। স্কুলের মধ্যেই মারধরের চোটে গুরুতর আহত হয় ওই পড়ুয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটেছে। পড়ুয়ার মা জানিয়েছেন, স্কুলেই প্রিন্সিপাল রাকেশ কুমার পিভিসি পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এর জেরে পড়ুয়ার শরীরের একাধিক জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। কালশিটে পড়েছে শরীর জুড়ে। পড়ুয়ার সেই আঘাতের ছবি, ভিডিও থানায় জমা দিয়েছেন তার মা। 

এখানেই শেষ নয়। স্কুলে গিয়ে প্রিন্সিপালের এহেন আচরণ ঘিরে ক্ষোভ উগরে দেন পড়ুয়ার মা। এরপরই তাঁকেও হুমকি দেন ওই অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল। পড়ুয়ার ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে শীঘ্রই স্কুলের প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন। 

বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল রাকেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি স্কুলের প্রধান বিজয় কুমারের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে। নাবালক ছাত্রকে হেনস্থার প্রতিবাদ না রোধ না করার জন্য। পাশাপাশি ওই স্কুলের এক শিক্ষিকা চন্দ্রিকার বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করেছে পুলিশ। 

প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে মাথায় তেল না দেওয়ার জন্য ভয়ঙ্কর শাস্তি দেওয়া হয়েছিল এক পড়ুয়াকে। চুলে তেল না দিয়ে স্কুলে আসার কড়া শাস্তি! রাগের মাথায় ছাত্রীর চুল কেটে নিলেন শিক্ষিকা। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের তরফে ওই শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটে। জামনগরের স্বামীনারায়ণ গুরুকুল স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালেই ওই স্কুলের এক ছাত্রীর চুল ব্লেড দিয়ে কেটে দেন এক শিক্ষিকা। কারণ? ওই ছাত্রী চুলে তেল না দিয়ে স্কুলে এসেছিল। 

স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই শিক্ষিকার কীর্তির কথা পরিবারকে জানিয়েছিল ওই ছাত্রী। এরপর ওই পরিবার জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরেই শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। 

ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, অতীতে আরও একাধিক পড়ুয়াকে কড়া শাস্তি দেওয়া হয়েছে এই স্কুলে। ভুলবশত কোনও পড়ুয়া যদি বই আনতে ভুলে যেত, তাকে ১০০ বার কান ধরে উঠবস করানো হত।