আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকার এসআইআর-এর আইনি বৈধতা মেনে নিয়ে শীর্ষ আদালত বুধবার জানিয়েছে, কমিশনের এই পদক্ষেপে কোনও আইন বা সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়নি। 

আদালতের স্পষ্ট বক্তব্য, নির্ভুল ও সবার জন্য উন্মুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ। পাশাপাশি জানান হয়েছে এই প্রক্রিয়া আসলে ‘সংবিধানে নতুন প্রাণ জোগায়’।

আদালত আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনও কাজ করেনি। সাধারণ প্রক্রিয়ার চেয়ে এটি আলাদা বলেই একে ‘আইন-বহির্ভূত’ বলা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার যে সাংবিধানিক লক্ষ্য, তার সঙ্গে এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার সরাসরি যোগ রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ আজ এই রায় দেয়।

কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ওঠা আপত্তিগুলিকে মূলত চারটি প্রশ্নে ভাগ করে আলোচনা করে শীর্ষ আদালত। সবক’টি ক্ষেত্রেই কমিশনের পক্ষে রায় দেয়। 

প্রশ্নগুলি ছিল- 

এই বিশেষ সংশোধন কি কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি ক্ষমতার মধ্যে পড়ে?

 কমিশন যে পথ বেছে নিয়েছে, তার সঙ্গে আসল উদ্দেশ্যের কোনও যুক্তিযুক্ত মিল আছে কি না?

এই পদক্ষেপ করা কি জরুরি ছিল এবং এর কি অন্য কোনও বিকল্প ছিল না?

 নির্দিষ্ট লক্ষ্যপূরণ এবং মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা- এই দুইয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রাখা গিয়েছে কি না?

 এই প্রসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, "কমিশন নিজে এবং এই আদালতের নানা নির্দেশের পর যে ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাতে নির্বাচনী সততা বজায় রাখা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা- উভয় বিষয়ের মধ্যেই ভারসাম্য রাখা সম্ভব হয়েছে।" 

আদালতের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াটিতে সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার, ভুল সংশোধনের এবং প্রতিকার পাওয়ার একাধিক সুযোগ ছিল। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে এই বিশেষ সংশোধন নিয়ে বছরভর চলতে থাকা বিতর্কের অবসান হল। গত বছরের জুন মাসে বিহারে নির্বাচন কমিশন প্রথম এই প্রক্রিয়া শুরু করার পর, এর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে একগুচ্ছ মামলা দায়ের হয়েছিল।

কমিশনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টের আজকের এই রায়কে নির্বাচন কমিশনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক আইনি জয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।