আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার লড়েই একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে টিভিকে। কিন্তু সরকার গঠনের দাবি জানাতে গিয়ে একটি “কারিগরি ভুল”-এর কারণেই কি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে বসেছে বিজয়ের? রাজনৈতিক মহলে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।


সূত্রের খবর, ৬ মে রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাতে গিয়ে বিজয় যে চিঠি জমা দেন, সেখানে শুধু টিভিকের ১০৮ জন বিধায়কের নয়, কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষরও ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানেই বড় কৌশলগত ভুল করে ফেলেন বিজয়। কারণ, একক বৃহত্তম দল হিসেবে দাবি জানাতে গেলে প্রথমে শুধুমাত্র টিভিকে বিধায়কদের সমর্থনের তালিকা দেওয়া উচিত ছিল।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের স্বাক্ষর যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি “জোট সরকার” গঠনের দাবি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। ফলে রাজ্যপাল সম্ভবত বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন দেখাতে বলেন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা।


এরপর দ্বিতীয়বার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকেও কোনও সমাধান হয়নি। তামিলনাড়ু লোক ভবনের তরফে জানানো হয়, বিজয় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেননি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।


অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকের মতে, যদি বিজয় প্রথমে শুধুমাত্র টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে তুলে ধরতেন, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, “ভাল রাজনৈতিক পরামর্শদাতা থাকলে আজই শপথ নিতেন বিজয়।”


উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ৫১ বছর বয়সী বিজয়ের এটি প্রথম বড় নির্বাচন। তাঁর দল টিভিকে আগে কোনও বড় নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ছিল না। এমনকি স্থানীয় পুরসভা নির্বাচনেও দলটি আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। টিভিকে বিধায়কদের গড় বয়সও মাত্র ৪৪ বছর। 


তবে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত কি সাংবিধানিকভাবে সঠিক ছিল? বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের চাপে কাজ করছেন রাজ্যপাল।


সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতও এবিষয়ে বিভক্ত। সিনিয়র আইনজীবী নীরজ কিষাণ কল বলেছেন, সংবিধানের ১৬৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার গঠনের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের কিছু স্বাধীন ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি এবং কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি মনে করেন, একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়কেই প্রথমে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল।

 

&t=136s
এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে একসঙ্গে আসতে পারে। ফলে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন সকলের নজর রাজ্যপালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।