আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে মাইফলক। আজ এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হল। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC-SHAR) থেকে সফল উৎক্ষেপণ হল দেশের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল-ক্লাস রকেট 'বিক্রম-১'-এর। স্কাইরুট এরোস্পেস নামক একটি বেসরকারি সহায়তায় নির্মিত এই রকেটের প্রথম মিশনের নামকরণ হয়েছিল আগেই। সেই 'মিশন আগমন' আজ প্রথম প্রচেষ্টাতেই রকেটের চারটি স্তর নিখুঁতভাবে কাজ করেছে। উপগ্রহগুলিকে কক্ষপথে স্থাপনে সাফল্যলাভ করেছে।

 

মিশনের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্কাইরুটকে ফোনে অভিনন্দন জানান। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পবন ও ভরতের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, "আপনারা কেবল মহাকাশেই নতুন বৃক্ষরোপণ করেননি। বরং মাটিতেও নতুন শিকড় মজবুত করতে সফল হয়েছেন, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।"

 

জানা গিয়েছে, 'বিক্রম-১' রকেটটি প্রায় সাততলা বাড়ির সমান লম্বা। এটি অল-কার্বন কম্পোজিট মাল্টিস্টেজ লঞ্চ রকেট। যা লো আর্থ অরবিট (লিও) স্তরে ৩৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে সক্ষম। খবর অনুযায়ী, রকেটে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি থ্রিডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিন এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড রকেট মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম পরীক্ষামূলক এই মিশনে গ্রাহা স্পেস, কসমোসার্ভ, ডি-কিউবড এবং স্কাইরুটের নিজস্ব 'স্কোপ' পরীক্ষার বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রদর্শনকারী পেলোড ছিল। এছাড়া, এই মিশনের সাফল্যে নরেন্দ্র মোদীর হাতে লেখা 'বন্দে মাতরম' পোস্টকার্ড এবং ইসরোর বর্তমান ও প্রাক্তন চেয়ারম্যানদের শুভেচ্ছাবার্তাও পাঠানো হয়েছে।

 

প্রসঙ্গত, ইসরোর প্রাক্তন বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা এবং নাগা ভরত ঢাকা ২০১৮ সালে স্কাইরুট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২২ সালে তাদের 'বিক্রম-এস' রকেটটি দেশের প্রথম বেসরকারি রকেট হিসেবে মহাকাশে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল। এবার 'বিক্রম-১'-এর হাত ধরে ভারত বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তাঁদের এই মিশন ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ যাত্রায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।