আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ডের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।

সূত্রের দাবি, এর আগে কোচিতে আয়োজিত এক মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠানে ‘অপমানিত’ বোধ করার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন।

হাইকমান্ডের ডাকা বৈঠকে থারুরের এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে স্পষ্ট করে তুলছে।

কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তিনি দলের রাজ্য ও কেন্দ্র, উভয় নেতৃত্বের প্রতিই অসন্তুষ্ট। যা বৈঠকে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, শশী থারুর ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন।

তাঁর মতে, দলের প্রতি তাঁর যে অবদান রয়েছে তা যেন একপ্রকার অবহেলা করা হচ্ছে। কোচিতে মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠানের ঘটনার মধ্যে দিয়ে সেই প্রবণতাই দেখা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, এর আগে কোচির ওই মহাপঞ্চায়েত অনুষ্ঠানে বসার ব্যবস্থা ও বক্তৃতার সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অভিযোগ, থারুরকে জানানো হয়েছিল যে তাঁর পরে কেবল রাহুল গান্ধীই বক্তব্য রাখবেন।

কিন্তু পরে একাধিক নেতা রাহুল গান্ধীর আগমনের পরেও মঞ্চে বক্তৃতা দেন। দলের একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে থারুরের মর্যাদার কথা মাথায় রাখলে এই ঘটনাকে প্রকাশ্যে অপমান হিসেবে দেখছেন থারুর সহ আরও অনেকে।

নির্ধারিত পরিকল্পনা ভেঙে অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য রাখার বিষয়টি প্রোটোকল লঙ্ঘন বলেও মনে করছেন অনেকে। যা থারুরের অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এই ঘটনার পর কংগ্রেসের অন্দরমহলে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সিনিয়র নেতাদের প্রতি সম্মান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই মহাপঞ্চায়েতে রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তৃতায় শশী থারুরের নাম উল্লেখ করেননি।

এই বিষয়টিও থারুরের অসন্তোষ আরও গভীর করেছে বলে সূত্রের দাবি। জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের হাইকমান্ডের বৈঠকে এদিন থারুর অংশ না নিলেও কেরল লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। উল্লেখ্য, এই পুরো ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।