আজকাল ওয়েবডেস্ক: নামাজ শরীরের জন্য ভাল। এই বিষয়ে একটি ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হল এমকিওর ফার্মাকিউটিক্যালসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নমিতা থাপারকে। তিনি শার্ক ট্যাঙ্ক ইন্ডিয়া নামক একটি রিয়্যালিটি শোয়ের বিচারকও ছিলেন। তাঁকেই ধর্মাচারণের ভাল দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ট্রোলের মুখে পড়তে হল। এই নিয়ে বিষয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এদিন সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “চুপ করে থাকলে আসলে কিছুই হবে না।” তাঁর কথায়, “নিজের এবং নিজের পরিবারের দিকে অকারণে আক্রমণ এলে চুপ করে সহ্য করার কোনও মানে হয় না।” তিনি জানান, “গত তিন সপ্তাহ ধরে আমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। তাও কিছু বলিনি। হয়ত কিছু বলতামও না। কিন্তু আমার মাকে টেনে আনা হচ্ছে এই অসভ্যতামির মধ্যে। এরপরেও চুপ থাকাটা সম্ভব নয়।”
এই ঘটনায় নমিতা প্রচণ্ড অপমানিত বোধ করেছেন। মাঝরাস্তায় নিজের গাড়ি দাঁড় করিয়ে তিনি আরও একটি ভিডিও বানিয়ে সে কথায় জানান নেটদুনিয়াকে। তাঁর প্রতি হওয়া ব্যক্তিগত আক্রমণগুলি নিয়ে কথা বলতেও তিনি পিছপা হননি।
তিনি নিজেকে একজন পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে দাবি করেন এবং জানান যে কোনও ধর্মের আচারগুলি শরীরের জন্য কতখানি ভাল। পাশাপাশি সেই ভিডিওতে তিনি জানান, “আমি এর আগে হিন্দু ধর্ম নিয়েও এমন একটি তথ্যভিত্তিক ভিডিও বানিয়েছি। সেখানে হিন্দুদের আচার পালনের শারীরিক উপকারগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। তখন তো এরকম কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। যখন হিন্দু প্রথা, যোগাসন বা সূর্য নমষ্কারের বিরুদ্ধে এইভাবে প্রতিক্রিয়া এল না তখন নামাজ নিয়ে এভাবে অসভ্যতা কেন শুরু হল? একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে ঘিরেই কেন আক্রমণ করা হচ্ছে?”
তাঁর মতে রিলিজিয়ন শব্দের শুরুতে যে ‘আর’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় সেটা রেস্পেক্ট বা সম্মানের জন্য ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে মহিলাদের প্রতি সম্মানের কথাও তাঁর ভিডিওতে উঠে আসে। তারঁ কথায়, ‘ঈশ্বর সবকিছু দেখছেন।’
নমিতাকে এই অপমান সঙ্য করতে হচ্ছে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে। ওই সময় তিনি ইদ পালন করতে এক বন্ধুর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি নামাজকে একটা ‘সুন্দর আধ্যাত্বিক অভ্যাস’ বলে অভিহিত করেন। ইদের সেই ভিডিওতেই তিনি বলেন যে, নামাজের ফলে শরীর কতটা ভাল থাকে। মানসিক স্বাস্থ্যও সুন্দর হয়ে ওঠে।
তিনি নামাজের সঙ্গে বজ্রাসনের তুলনে করে বলেন দু’টিই হজমে সাহায্য করে। নামাজের ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায় বলেও তিনি দাবি করেন। মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে নামাজের সঙ্গে ধ্যান করার সাদৃশ্যের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলরা হামলে পড়েন তাঁর উপরে। নমিতা স্পষ্ট বলেন, “এতদিনে আমি এইটুকু বুঝেছি যে অসম্মানিত হলে অবশ্যই রুখে দাঁড়াতে হবে। যেখানেই ন্যায়নীতির বাইরে কোনও ঘটনা ঘটবে সেখানেই দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। শুধু আমি বললে হবে না। সকলকেই বলতে হবে। আমাকে নিয়ে কেউ ট্রোল করলে আমার কিছু যায় আসে না। বছর পাঁচেক আগে যখন শার্ক ট্যাঙ্কে ছিলাম তখন থেকেই চামড়া মোটা হয়ে গিয়েছে। গায়ে লাগে না আর কিছু। কিন্তু এই ভিডিওটা আমি আমার কথা বলার জন্য বানাচ্ছি না, সমগ্র ভারতবাসীর কাছে এই বার্তা দেওয়ার জন্য বানাচ্ছি যে যে কোনও সমস্যা হলে, বা অপমানজনক কিছু চোখের সামনে দেখলে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন। চুপ করে থাকবেন না।”















