আজকাল ওয়েবডেস্ক: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-এর ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলে দেয় দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত। এবার আরও এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে সে। ভারত সরকারের 'সেন্ট্রাল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট' (সিপিপি) পোর্টাল থেকে প্রায় ১.৬৬ কোটি সরকারি টেন্ডার সংক্রান্ত ক্রয়বিক্রয়ের রেকর্ড-সহ অন্যান্য তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য একটি উন্মুক্ত পাবলিক পোর্টাল চালু করেছে। তেমনটাই খবর সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

সমাজমাধ্যম এক্স-এ এই উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে সার্থক লিখেছে, "স্বচ্ছতা সবার কাছে সহজলভ্য হওয়া উচিত। আজ থেকে তা হল।" তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহে সিপিপি পোর্টাল থেকে এই বিশাল পরিমাণের রেকর্ডের ভাণ্ডার সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক এবং গবেষকদের অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা এই তথ্যভান্ডার ডাউনলোড করে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, এটিকে একটি বৃহত্তর স্বচ্ছতা অভিযানের "শুরু" বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 

সার্থকের এই নতুন পোর্টালটি শিক্ষাক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে সরকারি খরচের হিসাবনিকেশকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজবোধ্য করে তুলবে। তার মতে, এই তথ্যভাণ্ডার প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হল সরকারি ব্যয়ের রেকর্ড অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলা। জনসাধাবণের কাছে এর ফলে সরকারি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যাবে।

 

এর আগে সিবিএসই-এর টেন্ডার নিয়ে সার্থকের করা অনুসন্ধান দেশের সংসদ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সে শিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সামনে হাজির হয়ে ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং সরকারি টেন্ডার ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য উপস্থাপন করেছিল।

 

উল্লেখ্য, সার্থক প্রথম জাতীয় স্তরে সকলের নজর কাড়ে দ্বাদশ শ্রেণীর উত্তরপত্র মূল্যায়নের 'অন-স্ক্রিন মার্কিং' ব্যবস্থা এবং সিবিএসই-এর টেন্ডার নথির একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। নিজের স্ক্যান করা বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র হাতে পাওয়ার পর নম্বরের মধ্যে কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করে সার্থক। এরপরই সে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ডিজিটাল মূল্যায়নে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আরও অনেক শিক্ষার্থী উদ্বেগ প্রকাশ করে। সার্থক তখন অনলাইনে জনসমক্ষে থাকা সিবিএসই-এর একাধিক টেন্ডার নথি গভীরভাবে পরীক্ষা করে।

 

সার্থকের দাবি ছিল, সে দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ্যতার মানদণ্ড, পারফরম্যান্স ক্লজ এবং সার্টিফিকেশনের নিয়মে বেশ কিছু পরিবর্তন শনাক্ত করেছে। যুক্তি ছিল, এই পরিবর্তনগুলি সরকারি ক্রয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলে।