আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর বর্ষপূর্তি। তার ঠিক আগেই ভারতের কাছে আসতে চলেছে রাশিয়ার তৈরি চতুর্থ ‘এস-৪০০’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা। 

মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই রুশ জাহাজটি ভারতের বন্দরে পৌঁছনোর কথা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, পঞ্চম ব্যবস্থাটিও চলতি বছরের নভেম্বর নাগাদ হাতে পেয়ে যাবে ভারত। 'অপারেশন সিন্দুর'-এর সময় এটি ভালো ফল দেখিয়েছিল। 

রুশ প্রযুক্তিতে এতটাই ভরসা রাখছে ভারত যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে পাকিস্তানের যে কোনও আকাশপথের হামলাকে মাঝপথেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, গত ১৮ এপ্রিল বায়ুসেনার কর্তারা রাশিয়ায় গিয়ে ওই সামগ্রীগুলি পরীক্ষা করে দেখেছেন। গত সপ্তাহেই সেগুলি ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। পাক সীমান্ত বরাবর ভারতের আকাশপথ আরও সুরক্ষিত করতে রাজস্থান সেক্টরে এটি মোতায়েন করা হতে পারে। 

‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন ভারত মোট ১১টি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। তাতে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও তাদের সমস্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিমেষে গুঁড়িয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মজুত ভাণ্ডার বাড়াতে আরও ২৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত।

যুদ্ধ চলাকালীন পাঞ্জাব ও গুজরাটে মোতায়েন ভারতের এই এস-৪০০ ইউনিটগুলিকে ধ্বংস করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান। সিন্ধু নদের এ পাড়ে ভারতের এই রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রের দাপটে পাক বিমানবাহিনী কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগাল এড়াতে পাকিস্তান তাদের সমস্ত যুদ্ধবিমান কোয়েটা ও পেশোয়ারের মতো দূরবর্তী ঘাঁটিতে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

জানা গিয়েছে, ভারত যে পঞ্চম এস-৪০০ ব্যবস্থাটি পাবে, তা চীন সীমান্তে মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু কেনাই নয়, এই উন্নত প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশেই বেসরকারি উদ্যোগে পরিকাঠামো গড়ার কথা ভাবছে সরকার।

পাশাপাশি, এই এস-৪০০ ব্যবস্থাগুলিকে ড্রোনের হাত থেকে বাঁচাতে রাশিয়ার থেকে ১২টি ‘প্যান্টসির’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরাসরি কেনা হবে। এ ছাড়া আরও ৪০টি প্যান্টসির তৈরি হবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে।