আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে সেখানকার হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। মুম্বইয়ের ওরলির নেহরু সেন্টারে সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের ‘ব্যাখ্যানমালা’ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রায় ১.২৫ কোটি হিন্দু আছেন। তাঁরা যদি সেখানে থেকেই নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে বিশ্বের সমস্ত হিন্দুরা তাঁদের পাশে দাঁড়াবে।”

‘১০০ ইয়ার্স অফ সঙ্ঘ জার্নি: নিউ হরাইজনস’ শীর্ষক এই বক্তৃতামালায় ভাগবত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিভিন্ন জায়গায় হিংসাত্মক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। প্রতিবাদ কর্মসূচির আড়ালে সংগঠিত আক্রমণে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও ছাত্রসহ একাধিক হিন্দুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

দেশীয় ইস্যুতেও সরব হন আরএসএস প্রধান। ভারতের জনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে সরকারগুলি জন্মহার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। “জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়ে আগের সরকার যথেষ্ট কাজ করেনি। জন্মহার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ এর কারণ। এখন সরকার ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, ফলে সাফল্য আসবে,” মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে তাঁর দৃঢ় বার্তা, “ভারতকে আর ভাঙা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙতে চাইবে, তারাই ভেঙে যাবে।”

আরএসএসের অর্থসংস্থান নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তিনি দাবি করেন, সঙ্ঘ কর্পোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের উপর নির্ভর করে না। “অনেকে জানতে চান, আরএসএসের টাকা কোথা থেকে আসে। আমরা স্বয়ংসেবকদের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করি। সফরে গেলে খাবার কিনে খাই না, কর্মীদের বাড়িতে থাকি, হোটেলে নয়,” বলেন তিনি।

&t=10s

নেতৃত্ব ও জাতপাত প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, সঙ্ঘে কোনও জাতিগত বৈষম্য নেই। “যে কোনও জাতের মানুষ আরএসএস প্রধান হতে পারেন। তফসিলি জাতি-উপজাতি হওয়া কোনও অযোগ্যতা নয়, আবার ব্রাহ্মণ হওয়াও কোনও যোগ্যতা নয়। আমরা সব জাতের জন্য কাজ করি, যদিও শুরুতে সঙ্ঘে ব্রাহ্মণদের উপস্থিতি বেশি ছিল,” জানান তিনি।

মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করার প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, “মুসলিম এলাকায় চ্যালেঞ্জ এলে আমরা প্রতিক্রিয়া দিই না। কেউ গালিগালাজ করলেও উত্তর দিই না। তাতে সংঘাত বাড়ে না।”

এর আগে, বক্তৃতামালার প্রথম দিনে ভাগবত বলেন, আরএসএস কারও বিরুদ্ধে নয় এবং ক্ষমতা দখল বা চাপ সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য নয়। “সঙ্ঘ কারও বিরোধিতা করে না। সঙ্ঘ ক্ষমতা চায় না। সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করাই আমাদের উদ্দেশ্য,” বলেন তিনি। ১৯২৫ সালে সমাজে ঐক্যের অভাব অনুভব করেই ড. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ার আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলেও স্মরণ করান ভাগবত।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও ভারতের অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা-রাজনীতি নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।