আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্কুলে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য শিক্ষকের ব্যবহৃত বেতকে ‘বিপজ্জনক অস্ত্র’ বলা যায় না—এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করল কেরল হাইকোর্ট। Sibin S.V. বনাম স্টেট অফ কেরল মামলায় বিচারপতি সি. প্রতীপ কুমার জানান, শিক্ষক যদি সৎ উদ্দেশ্যে ও কু-অভিপ্রায় ছাড়া সীমিত শারীরিক শাস্তি দিয়ে থাকেন, তা হলে তা আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে ধরা যাবে না।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভেঙ্গালুরের একটি স্কুলের ৩৬ বছর বয়সি শিক্ষককে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ধারা ১১৮(১) এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনের ধারা ৭৫-এ অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগ ছিল, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি স্টাফরুমে এক ছাত্রকে বেত দিয়ে নিতম্বে আঘাত করেন। যদিও ঘটনার তিন দিন পরে এফআইআর দায়ের হয়। শিশুটিকে একই দিন ভিঝিঞ্জামের কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকের রিপোর্টে কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, BNS-এর ধারা ১১৮(১) প্রযোজ্য হতে হলে ব্যবহৃত অস্ত্র বা উপায় স্বভাবগতভাবেই বিপজ্জনক হতে হবে। একটি সাধারণ বেত সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। ফলে ওই ধারায় অপরাধ গঠিত হয় না। জুভেনাইল জাস্টিস আইনের ধারা ৭৫ প্রসঙ্গে আদালত পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করে জানায়, শিক্ষকরা একটি বিশেষ আস্থার অবস্থানে থাকেন। অভিভাবক যখন সন্তানকে স্কুলে পাঠান, তখন শিক্ষকের কাছে শৃঙ্খলা রক্ষার একটি অন্তর্নিহিত অনুমতি থাকে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, শাস্তি অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত সীমার মধ্যে এবং সৎ উদ্দেশ্যে হতে হবে।

&t=10s

বিচারপতি বলেন, নথিপত্রে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে অভিযুক্ত শিক্ষকের খারাপ উদ্দেশ্য  ছিল বা তিনি নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন। বরং ঘটনাটি শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে দেওয়া ন্যূনতম শাস্তি বলেই মনে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মামলা চালিয়ে যাওয়া আইন প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হবে বলে আদালত মত দেয়।

ফলে তিরুবনন্তপুরমের অতিরিক্ত সেশনস কোর্টে বিচারাধীন মামলার সমস্ত কার্যক্রম খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। শিক্ষকের পক্ষে সওয়াল করেন এম.আর. সারিন, পি.এস. সন্তোষকুমার (করুমকুলাম), পার্বতী কৃষ্ণ, আজি এস ও মিধুন সোমন। রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর ব্রিজ এম.এস।

এই রায় শিক্ষাঙ্গনে শারীরিক শাস্তি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালত যেখানে শিক্ষকের ‘সৎ উদ্দেশ্য’ ও সীমিত শাসনের কথা বলেছে, সেখানে শিশু অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থেকে যাচ্ছে।