আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছত্তিশগড়ের করবা জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ২৭ বছরের এক ইউটিউবার কন্যার বিরুদ্ধে ঘুমন্ত বাবাকে কাস্তে দিয়ে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। গাজিয়াবাদের তিন ভাইবোনের আত্মহত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে পরিবার, সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি ও প্রজন্মগত দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে হারদি বাজার এলাকার রালিয়া গ্রামে, মঙ্গলবার ভোররাতে। অভিযুক্ত গীতা কেভাত (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত তাঁর বাবা অশোক কুমার কেভাত (৫৫)।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বহু বছর ধরেই পরিবারে অশান্তি চলছিল। প্রায় আট বছর ধরে অশোক কুমার একাই গ্রামে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়ে আলাদা থাকতেন। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের দাবি, অশোকের সঙ্গে স্ত্রীর ও মেয়েদের প্রায়ই ঝগড়া হতো। অভিযোগ, তিনি মদ্যপান করতেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন।
তিন বোনের মধ্যে দু’জন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত, আর এক জন পড়াশোনা করছেন। বড় মেয়ে গীতা সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতেন। সমাজের নানা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে তিনি ভিডিও বানাতেন বলে জানা গেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, মেয়ের এই সোশ্যাল মিডিয়া সক্রিয়তা নিয়ে অশোক কুমারের আপত্তি ছিল। অনলাইন উপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রায়ই প্রশ্ন তুলতেন, যা নিয়ে বাড়িতে অশান্তি বাড়ত।
পুলিশ জানিয়েছে, জমি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রামে এসেছিলেন। সেই সূত্রেই স্ত্রী ও মেয়েরা গ্রামে ছিলেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধও পারিবারিক টানাপোড়েনের একটি কারণ হয়ে উঠেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
&t=10sমঙ্গলবার ভোর প্রায় ২টো নাগাদ গীতা তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। সেই সময় বাবা-মেয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, অশোক কুমার মেয়েকে কটূক্তি করেন এবং অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন। উত্তেজনার এক পর্যায়ে গীতা একটি কাস্তে তুলে নিয়ে বাবার চোয়াল, গলা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপ মারেন। ঘটনাস্থলেই অশোক কুমারের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর গীতা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আত্মীয়দের কাছে গিয়ে নিজেই খুনের কথা জানান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হরদি বাজার থানার ইনচার্জ প্রমোদ দাদসেনা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে। প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় এবং পরে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লক্ষণ পাটলে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি নিয়মিত মদ্যপান করতেন এবং নেশার ঘোরে প্রায়ই উত্তেজিত আচরণ করতেন। তবে খুনের পেছনে ঠিক কোন কারণগুলি কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক অশান্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে মতভেদের বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তদন্ত এখনও চলছে।
















