আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুজরাটের গান্ধী নগরের এক ৬৫ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা প্রায় এক মাস ধরে তথাকথিত “ডিজিটাল গ্রেপ্তারের” নামে প্রতারণার শিকার হয়ে ৯৯ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরিচয় দিয়ে সাইবার জালিয়াতরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ।
ঘটনাটি বর্তমানে Gandhinagar Range Cyber Crime Police তদন্ত করছে। পুলিশের মতে, সচেতনতা প্রচার চললেও অনলাইন প্রতারণার কৌশল দিন দিন আরও জটিল ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠছে—এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি সেক্টর ৮-এর বাসিন্দা ওই শিক্ষিকা একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে দাবি করা হয়, তাঁর নামে ইস্যু হওয়া একটি সিম কার্ড অবৈধ কাজ ও হুমকিসহ ফোনকলের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে ভিডিও কলে যোগাযোগ করেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে “অজয় গুপ্তা” নামে Central Bureau of Investigation (CBI)-এর অফিসার বলে পরিচয় দেন।
প্রতারক দাবি করেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি নাকি একটি মানি লন্ডারিং তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এবং শীঘ্রই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে প্রতারকরা নিজেদের Department of Telecommunications-এর আধিকারিক বলেও পরিচয় দেয়।
শুধু কথার ভয় নয়, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয় একাধিক ভুয়ো নথি—যার মধ্যে ছিল Supreme Court of India-এর নাম ব্যবহার করে তৈরি জাল আদেশ, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং Mumbai Crime Branch-এর ভুয়ো নথি। এই সব কাগজ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই প্রবীণা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এরপর তাঁকে কার্যত ২৮ দিন “ডিজিটাল নজরবন্দি” করে রাখা হয়। প্রতারকরা তাঁকে নির্দেশ দেয়, তিনি যেন কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করেন। নিয়মিত বার্তা পাঠিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে বলা হয়। সাইবার অপরাধ দমন শাখার ভাষায়, এটিই ছিল একপ্রকার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’—যেখানে শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে বন্দি রাখা হয় ভুক্তভোগীকে।
নিজের আর্থিক নথি যাচাই ও নাম “পরিষ্কার” করার অজুহাতে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁকে একাধিক আরটিজিএস লেনদেনের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ, তাঁর State Bank of India অ্যাকাউন্ট এবং পোস্ট অফিসের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে মোট ৯৯ লক্ষ টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
প্রতারকরা আশ্বাস দিয়েছিল, যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও টাকা ফেরত না পেয়ে সন্দেহ জাগে তাঁর। তখনই তিনি জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন ১৯৩০ নম্বরে যোগাযোগ করেন।
পরবর্তীতে গান্ধীনগর রেঞ্জ সাইবার ক্রাইম থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য ও ডিজিটাল ট্রেইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ডিজিটাল গ্রেপ্তার’ এখন নতুন ধরনের প্রতারণা কৌশল, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নাম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে মানসিক চাপে ফেলা হয়। পুলিশ আবারও নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছে—কোনও সংস্থা ভিডিও কল বা ফোনে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয় না, এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সরকারি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করা উচিত।
