আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে 'ব্রিকস' বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই ভারতের সঙ্গে প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক ইরানের।

১৪ ও ১৫ মে-দু'দিন ধরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হচ্ছে ব্রিকস গোষ্ঠীভূক্ত বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক। এই বৈঠকে অংশ নিতে আসা অন্যান্য ব্রিকস দেশের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আমেরিকার চাপ ও জবরদস্তির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “মার্কিন দাদাগিরির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই এই ঘরে উপস্থিত প্রায় প্রত্যেক দেশের কাছেই অচেনা নয়। আমাদের অনেক দেশই একই ধরনের জঘন্য চাপ ও জবরদস্তির মুখোমুখি হয়েছে।”

তিনি ব্রিকস দেশগুলিকে একযোগে এই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। আরাঘচির কথায়, “এখনই সময় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে এসে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার যে, এই ধরনের নীতি ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপেই জায়গা পাবে।” পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা অস্থিরতা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু দেশ হয়ত মনে করে বেপরোয়া সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে আঞ্চলিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত সকল পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

আরাঘচি বলেন, “যাঁরা বেপরোয়া অভিযানে নামছেন, তাঁরা হয়তো ভাবছেন এতে তাঁদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং সরকারগুলি এখন বুঝতে পারছে যে, আঞ্চলিক অস্থিরতা সবার জন্যই ক্ষতির— এমনকি আগ্রাসনকারীদের জন্যও।”আরও এক তীব্র মন্তব্যে তিনি বলেন, ইতিহাস দেখিয়েছে পতনের মুখে থাকা সাম্রাজ্যগুলি নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষায়, “ইতিহাস সাক্ষী, পতনশীল সাম্রাজ্য নিজেদের অনিবার্য পরিণতি ঠেকাতে সবকিছু করতে পারে। আহত পশু যেমন শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে থাবা মারে ও গর্জন করে, তেমনই আচরণ করে তারা।”

ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস বৈঠকে আরাঘচি ও লাভরভের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রিকস মঞ্চের বাড়তে থাকা গুরুত্বকেই সামনে এনে দিয়েছে। ব্রিকস বৈঠকে সদস্য দেশগুলির শীর্ষ কূটনীতিকরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।