আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে গুজরাট পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, গত ১২ বছরের ব্যবধানে ২৩০০ কেজিরও বেশি মাদকদ্রব্য 'ভ্যানিশ' হয়ে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই মাদকের কিছু অংশ 'চুরি' হয়ে গিয়েছে, আর বাকিটা 'ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে'!
সিএজি তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে গুজরাট পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট (যার মধ্যে সিআইডি ক্রাইম এবং স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি)-ও অন্তর্ভুক্ত) মোট ৬,৫১০.৫৪ কেজি মাদকদ্রব্য এবং ৮৪৮ বোতল মাদক বাজেয়াপ্ত করেছিল। তবে, বাজেয়াপ্ত করা মাদকের পরিমাণের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সেগুলো ধ্বংস বা নিষ্পত্তি করা মাদকের পরিমাণের তুলনা করতে গিয়ে বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়ে।
সিএজি উল্লেখ করেছে যে, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জুলাই মাসের মধ্যে প্রায় ৪,১৭৭.৮৬ কেজি মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে বাজেয়াপ্ত এবং ধ্বংস করা মাদকের ব্যবধান প্রায় ২,৩৩২.৬৮ কেজি। শতাংশের নিরিখে যা প্রায় ৩৫ শতাংশ।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করলে, পুলিশ কর্মকর্তারা মাদকের এই 'ভ্যানিশ' হওয়ার নেপথ্যে চুরি, পোকামাকড় বা ইঁদুরের উপদ্রব এবং প্রাকৃতিকভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেন। কর্মকর্তারা জানান যে, প্রায় ১৪৪ কেজি গাঁজা চুরি হয়ে গিয়েছে, আর অবশিষ্ট মাদকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নাকি 'ইঁদুরে খেয়ে ফেলেছে'।
গাঁজা ও আফিমের মতো মাদকদ্রব্যে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে ওজনের তারতম্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশি ব্যাখ্যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এই ধরনের মাদকদ্রব্যের ওজন ও আয়তন কিছুটা কমে যায়।
তবে, পুলিশের এই ব্যাখ্যা নিরীক্ষকদের মনে সংশয় সৃষ্টি করেছে। সিএজি মন্তব্য করেছে যে, পরিবেশগত কারণে মাদকের ওজনে সামান্য তারতম্য বা ঘাটতি হওয়াটা স্বাভাবিক হলেও, এই ঘাটতির ব্যাপকতা মাদকের সংরক্ষণ পদ্ধতি, এবং তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
রিপোর্টে বাজেয়াপ্ত করা মাদকদ্রব্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কাঠামোগত বা পদ্ধতিগত সমস্যাগুলোর ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে।
রিপোর্টে চিহ্নিত অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হল ফরেনসিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা। যার ফলে মাদকের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় এবং সময়মতো সেগুলোর নিষ্পত্তি বা ধ্বংস করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
বেশ কিছু ক্ষেত্রে, বাজেয়াপ্ত মাদকদ্রব্য দীর্ঘ সময় ধরে গুদামে বা সংরক্ষাণাগারে পড়ে থাকে; যার ফলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া, চুরি হয়ে যাওয়া কিংবা দূষিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়াও, রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, বাজেয়াপ্ত করা মাদকদ্রব্যের নিরাপদ সংরক্ষণ এবং ধ্বংস করার ক্ষেত্রে কোনও সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। সুস্পষ্ট নির্দেশিকা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি মজুত হিসাব রাখা এবং ভৌত সুরক্ষায় ত্রুটির কারণ হয়ে থাকতে পারে।
সিএজি এই গরমিলের কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।















