আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই দু'জন মহিলা তাঁর গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন। শনিবার আরও তিনজন একইভাবে আহত হলেন। তিনি বিজেপি বিধায়কের ছেলে। নিজের থর এসইউভি গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল ভোরবেলায়। তখনই একটি বাইককে ধাক্কা মারেন তিনি। বাইকে তিনজন আরোহী ছিলেন। প্রত্যেকেই আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আহতদের নাম সঞ্জয় পরিহার, আশীষ পরিহার, অনশুল পরিহার, সীতা বর্মা ও পূজা সোনি। এই পাঁচজনেরই হাত-পা ও মাথায় গভির চোট লেগেছে। অভিযুক্তের নাম দীনেশ লোধি। দীনেশ বিজেপি বিধায়ক প্রিতম লোধির ছেলে।
সঞ্জয় পরিহারের বক্তব্য তিনি দু’জন পুলিশকে সঙ্গে করে নিয়ে বিধায়কের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, "আমি পুলিশ নিয়ে ওঁর বাড়িতে গেলেও কোনও সুরাহা হয়নি। তিনি জানালেন জিমে যাচ্ছেন। সেখান থেকে ফিরে ফোন করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেবেন। কিন্তু আজও কোনওরকম ফোন আসেনি। তিনি যোগযোগ করেননি। আমাদেরকে তখন প্রায় বের করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের চিকিৎসার জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি।"
সীতা বর্মা স্কুলের শিক্ষিকা। তাঁর মাথায় অনেকখানি চোট লাগে। তিনিও নিজের চিকিৎসার সমস্ত খরচ নিজেই দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, "আমরা স্কুলে যাচ্ছিলাম। তখনই গাড়িটা পিছন থেকে এসে আমাদেরকে ধাক্কা মারে। আমাদের শুধু চিকিৎসার খরচটুকু দেওয়া হোক, ব্যাস আর কিছু চাই না।"
প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের কথায়, যাঁদের ধাক্কা লেগেছিল তাঁদের সাহায্য করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি। উল্টে বিধায়কপুত্র তাঁদেরকেই দোষ দিচ্ছিল। দীনেশের দাবি, "আমি তো হর্ন বাজিয়েছিলাম। সাইরেনও বাজালাম। তবুও ওরা কেন আমার সামনে এলো? এখানে আমার দোষ কোথায়?" এই ঘটনা ভিডিও করতে গেলে বিজেপি বিধায়কের ছেলে দীনেশ উপস্থিত লোকজনদের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ।
পুলিশে মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮১ এবং ১২৫(ক) ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত হয়। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো ও অন্যের জীবন বিপন্নকারী কার্যলাপ মামলা দায়ের হয়। ২৮১ ধারায় সর্বোচ্চ ছ'মাসের কারাদন্ড কিম্বা ১,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। অন্যদিকে ১২৫(ক) ধারায় সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদন্ড বা ২৫০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হয়ে থাকে।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশের কথায় যেহেতু অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ কারাদন্ড সাত বছরের কম তাই গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন পড়েনি। শহরের পুলিশ সুপার আয়ুশ জাখাদের বক্তব্য, "আমরা গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছি। অভিযুক্তকে নোটিশও দিয়েছি। আহতদের চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। বিধায়কও নন, তাঁর ছেলেও নন।"
অভিযুক্তের দাবি ছিল, তাঁর বিধায়ক বাবা আরও অনেক জটিল মামলা হলেও তাকে রক্ষা করবেন। পুলিশ জানিয়েছেন এই অভিযোগের কোনও প্রমাণ নেই। এসপি বলেন, "এই দাবি আমাদেরকে জানানো হয়েছে বটে, কিন্তু এই অভিযোগের সমর্থনে কোনও অকাট্য প্রমাণ নেই।"
এফআইআর-টি প্রাথমিকভাবে একজন ‘অজ্ঞাত পরিচয় চালকের’ বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি প্রচারের আলোয় আসার পরে দীনেশ লোধির নামেই মামলা দায়ের হয়। অভিযোগে স্পষ্ট হয়, গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চালানো হচ্ছিল। পুলিশের দাবি, এই অভিযোগের আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















