আগরতলা: জরুরি অবস্থার কথা বলতে গিয়ে, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর স্মৃতিচারণে ফুটে উঠল পুরনো দিনের কথা। বললেন, 'কালো দিন যাতে আর কোন সময় ফিরে না আসে সেই চেষ্টা করতে হবে। জরুরি অবস্থার সময়ে একটা আতঙ্কের পরিবেশ ছিল সর্বত্র। জরুরি অবস্থার কালো অধ্যায় সম্পর্কে আগামী প্রজন্ম ও যুবদের অবগত করতে হবে।'
সংবিধান হত্যা দিবসকে সামনে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, '১৯৭৫ সালে দেশে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন আমি-সহ ত্রিপুরার আরও কয়েকজনকে এলাহাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে তিনদিন থাকতে হয়েছিল। হাওড়াতে আসার পথে এই ঘটনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কলকাতায় কয়েকদিন থেকে আগরতলায় এসে পৌঁছাই। সেই সময় যাঁদের বোধশক্তি ছিল একমাত্র তাঁরাই বুঝতে পারবেন যে জরুরি অবস্থা কী ছিল। সেসময় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুখময় সেনগুপ্ত। ত্রিপুরায় একটা ভয়ের পরিবেশ ছিল তখন। কখন কাকে ধরে নিয়ে যাবে, কখন কাকে জেলের ভেতর পুরে দেবে - এমন আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। তখনকার প্রায় সব ঘটনাবলী আমার অবগত রয়েছে। এখনও সেই দিনগুলো মনে পড়ে আমার।'
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশে ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়েছিল। যা ছিল দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটা কালো অধ্যায়। এমন দিন আর যাতে ফিরে না আসে সেজন্য আমরা আজকের দিনটি পালন করি। এমন অবস্থা যাতে আর না হয়, তাই প্রতি বছর ভারতীয় জনতা পার্টি ২৫ জুন ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটা কালোদিন হিসেবে ঘোষণা করে এবং দেশজুড়ে কালা দিবস বা সংবিধান হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে যখন সরকার আসে তখন এধরণের কালো দিন আর যাতে না আসে এবং মানুষ যাতে সেদিনটি ভুলে না যায় তারজন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২৫ জুন দিনটিকে সংবিধান হত্যা দিবস হিসেবে পালন করার ঘোষণা করেন।'
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, 'তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজের গদি বাঁচানোর জন্য জরুরি অবস্থা কায়েম করেছিলেন। সাধারণত ইমার্জেন্সি ঘোষণা করতে হলে তিনভাবে করা যায়। যেমন ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি, কন্সটিটিউশন্যাল ইমার্জেন্সি এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইমার্জেন্সি। যুদ্ধ, বহিরাগত আক্রমণ, সশস্ত্র বিদ্রোহ, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন সহ কিছু ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩৫২ নম্বর ধারায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমে সেটা জারি করা যায়। পাকিস্তান এবং চীনের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ে এই অবস্থা এসেছিল। আর সংবিধানের ৩৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী ফাইন্যান্সিয়াল ইমার্জেন্সি জারি করা যায়। অর্থাৎ দেশের কোন স্থায়িত্ব বা ঋণ এর কারণে হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যায়। কিন্তু তখনকার সময়ে সরকার কতবার ৩৫৬ ধারা জারি করে অনেক রাজ্যের নির্বাচিত প্রতিনিধি বা তাদের সরকারকে উৎখাত করেছে।' তাঁর সংযোজন, 'জরুরি অবস্থার কালো অধ্যায় সম্পর্কে আগামী প্রজন্ম ও যুবদের অবগত করতে হবে। এজন্যই আজকের দিনটি পালন করা।' জরুরি অবস্থা ঘোষণা নিয়ে তদানীন্তন কংগ্রেস সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আমি আমাদের কার্যকর্তাদের উদ্দেশে বলব, জরুরি অবস্থার কালো অধ্যায় নিয়ে সবাইকে আরো অবগত করবেন। কংগ্রেস যেখানে দেশের গণতন্ত্রকে ধুলিস্যাৎ করেছে সেখানে তাদের পক্ষে গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানো নিতান্তই অনুচিত। প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা উচিত এবং আমাদের গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।'
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি অভিষেক দেবরায়, সহ সভাপতি তাপস ভট্টাচার্য, আর এস এসের প্রচারক পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি পাপিয়া দত্ত, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী টিংকু রায়, প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, সদর আরবান জেলা সভাপতি অসীম ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং দলের নেতৃত্ব।















