আজকাল ওয়েবডেস্ক: লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ আইন ও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হল শুক্রবার।
সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী কেন্দ্রের পদক্ষেপকে ‘প্যানিক রিঅ্যাকশন’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, সরকার আগেই জানত যে এই বিল লোকসভায় পাস হবে না।
তিনি বলেন, ‘ওরা খুব ভাল করেই জানত এই বিল পাশ করা সম্ভব নয়। বিরোধী দলের প্রত্যেক সাংসদই এটার বিরোধিতা করবেন, এটাও জানে কেন্দ্র। গোটাটাই আসলে আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া।’
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, এই পদক্ষেপের পিছনে মূলত দুটি উদ্দেশ্য রয়েছ। ‘প্রথমত, দেশের ইলেক্টোরাল মানচিত্রকে বদলে ফেলা এবং দ্বিতীয়ত প্রধানমন্ত্রীকে মহিলা-পন্থী হিসেবে তুলে ধরা।’
প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে তাঁকে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, ‘সত্যিটা হল, জাদুকর ধরা পড়ে গেছেন। বালাকোট, নোটবন্দি আর অপারেশন সিঁদুরের জাদুকরের কীর্তি শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে।’
রাহুলের এই মন্তব্যের পরই লোকসভায় তীব্র প্রতিবাদ জানান বিজেপি সাংসদরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন।
বালাকোট হামলা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকেও অপমান করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পিকার ওম বিড়লাকে রাহুলের মন্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এই ধরনের ভাষা ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ এবং নিন্দনীয়। পাশাপাশি, বারবার ‘জাদুকর’ শব্দ ব্যবহারে দেশের মানুষের প্রতিও অসম্মান দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন রাজনাথ সিং।
সংসদের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার ওম বিড়লা হস্তক্ষেপ করে জানান, সংসদে এই ধরনের ভাষা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি উল্টে রাহুল গান্ধীকে আলোচনার মূল বিষয়ে বক্তব্য রাখার নির্দেশ দেন।
তবে বিজেপির প্রতিবাদ চলার মধ্যেই কেন্দ্রের শাসক দলকে উদ্দেশ্য করে রাহুল পাল্টা বলেন, বিজেপি নিজেদের দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে এক করে দেখাতে চাইছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা ভারতের জনগণ নন, আপনারা সশস্ত্র বাহিনীও নন। আপনারা একটি রাজনৈতিক দল। আমরা দেশের মানুষ বা সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করছি না, আমরা আপনাদের আক্রমণ করছি। আপনারা সেনাবাহিনীর আড়ালে লুকোচ্ছেন।’
তবে এদিন তীব্র বাকবিতণ্ডার মধ্যে হালকা মেজাজে ইয়ার্কিও মারতে শোনা যায় রাহুলকে। হালকা সুরে রাহুল গান্ধী বলেন, তাঁর এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘স্ত্রী সংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই।’
উল্লেখ্য, 'নারী সংরক্ষণ বিল' বিতর্কে কেন্দ্রকে কড়া আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী। রায়বেরেলির কংগ্রেস সাংসদের অভিযোগ, "২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া নারী সংরক্ষণ বিলটিই ছিল এই বিষয়ে প্রকৃত আইন।
কিন্তু, বিলটিকে আসন পুনর্বিন্যাস বা 'ডিলিমিটেশন'-এর সঙ্গে যুক্ত করার বর্তমান পদক্ষেপটির মূল লক্ষ্য হল দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে ফেলা।"
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে সাজানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অসম এবং জম্মু ও কাশ্মীরে অতীতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। দাবি করেন যে, সমগ্র দেশের ক্ষেত্রেই বিজেপি সরকারের একই পরিকল্পনা রয়েছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, "এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন হবে।" তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো এবং অপেক্ষাকৃত ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে ফেলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কংগ্রেস সাংসদ বলেন, "আপনারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোকে বলছেন - আপনারা ভারতের ছোট রাজ্যগুলোকে বলছেন যে, বিজেপিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমরা আপনাদের প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নিতে চলেছি। এটা কোনওভাবেই একটি রাষ্ট্রবিরোধী কাজের চেয়ে কম কিছু নয়।"
'নারী সংরক্ষণ বিল'-কে রাহুল গান্ধী "রাষ্ট্রবিরোধী কাজ" বলে দেগে দেন। সব বিরোধী দলের সাংসদকে আশ্বাস দিয়ে রাহুল বলেন, "এই দেশবিরোধী বিল আমরা কোনও ভাবেই পাশ হতে দেব না।















