আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেছে তাঁর দল ‘টিভিকে’। তামিলনাড়ুর কুর্সিতে বসার পর এবার ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে সরাসরি ময়দানে নামলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ‘ধন্যবাদ ভাষণ’। বিজয়ের এই অভাবনীয় জয় অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষককেও চমকে দিয়েছে। আর তাঁর এই সাফল্যের জেরেই পতন হলো এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে সরকারের।
সোমবার সন্ধ্যায় তিরুচিরাপল্লিতে পা রাখেন বিজয়। এই তিরুচিরাপল্লি থেকেই ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলেন তিনি। আজ বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই তাঁকে ঘিরে ধরে জনজোয়ার।
"বিজয়! বিজয়!" স্লোগানে কেঁপে ওঠে চারপাশ। এরপর সেখান থেকে একটি রোড-শো-তে অংশ নেন তিনি।
জনতার বিপুল করতালির মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণ শুরু করেন শুধু একটি শব্দে- "ধন্যবাদ।"
ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো চেনা রাজনৈতিক দলগুলির দিকে ইঙ্গিত করে বিজয় বলেন, "এত বছর ধরে যারা আপনাদের ঠকিয়েছে, এবার আপনারা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। আপনারা আমাকে জিতিয়েছেন। এর জন্য আমি আপনাদের সামনে মাথা নত করে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।"
নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিজয় এখন একটি জোট সরকার চালাচ্ছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি অকপটে জানান, তাঁর দল যদি আরও কিছু আসন পেত, তবে কাজ করা অনেক সহজ হতো। তবে ভবিষ্যতের ওপর ভরসা রাখছেন তিনি। বিজয়ের কথায়, "আগামী দিনে আপনাদের সবার সমর্থন আমি পাব, এই বিশ্বাস আমার আছে। আমি কেমন কাজ করি, সেটা দেখলেই আপনারা আমার প্রশংসা করবেন।"
সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর স্যুট পরা নিয়ে বিরোধীরা যে কটাক্ষ করেছিল, তারও কড়া জবাব দিয়েছেন এই অভিনেতা-রাজনীতিক। বিজয় বলেন, "আমার স্যুটের রং সবসময় কালো আর সাদা হয়। এর একটা মানে আছে। আমি সবকিছুকে স্পষ্ট চোখে দেখি। ভালো আর মন্দের মাঝে আমার কাছে কোনও আপোসের জায়গা নেই।"
এ দিন বিমানবন্দরে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন মন্ত্রী আধব অর্জুনা, এস রমেশ এবং লোকসভার সাংসদ দুরাই ভাইকো। বিমানবন্দর থেকে সেন্ট জোসেফ কলেজ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে চলে এই জাঁকজমক রোড-শো।
ধন্যবাদ জানানোর জন্য তিরুচিরাপল্লিকে বেছে নেওয়ার একটি বড় কারণ রয়েছে। সেখানকার ‘তিরুচিরাপল্লি ইস্ট’ আসনের মানুষ তাঁকে বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন। এবার দুটি আসন থেকে দাঁড়িয়ে দুটিতেই জিতেছেন বিজয়। অন্য আসনটি ছিল চেন্নাইয়ের পেরাম্বুর। তবে নিয়ম মেনে তিরুচিরাপল্লি ইস্ট আসনটি ছেড়ে দিয়ে পেরাম্বুর আসনটিই নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।















