গ্রীষ্মের দুপুরে শেষ পাতে একটু আমের আচার না হলে বাঙালির ঠিক জমে না। আবার বৃষ্টির সন্ধেবেলাও মনটা আচার আচার করে৷
2
12
দীর্ঘদিন ভাল থাকবে, খেতেও হবে দারুণ, এরকম আচার বানাতে অনেকেই হিমশিম খান। সহজ উপায়ে তৈরি করুন আচার৷ স্বাদে যেমন অতুলনীয়, তেমনই ভালো থাকবে মাসের পর মাস। জেনে নিন কীভাবে বানাবেন এই আচার।
3
12
এই আচারের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে একটি বিশেষ ভাজা মশলায়। একটি প্যানে দেড় চা চামচ গোটা ধনে, দুই চা চামচ মৌরি, আধ চা চামচ কালো সরষে, এক চা চামচ গোটা জিরে, আধ চা চামচ রাঁধুনি এবং তিনটি শুকনো লঙ্কা নিয়ে একদম কম আঁচে দেড় থেকে দুই মিনিট ভেজে নিতে হবে।
4
12
মশলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোলে সেটি নামিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে গুঁড়ো করে নিলেই তৈরি আচারের এই জাদুকরী মশলা।
5
12
আচারের জন্য ৩ কেজি কাঁচা আম ভালো করে ছাড়িয়ে টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এরপর তাতে পরিমাণমতো নুন ও হলুদ মাখিয়ে অন্তত দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা কড়া রোদে শুকোতে হবে।
6
12
রোদে শুকোনোর ফলে আমের গায়ে লেগে থাকা অতিরিক্ত আর্দ্রতা বেরিয়ে যায়, যা আচার দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা আমের আঁটি শক্ত হওয়ার আগেই এই আচার বানালে আমের শাঁস বেশি পাওয়া যায়।
7
12
কড়াইতে তিন-চার চা চামচ সরষের তেল ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করে নিতে হবে। এরপর গ্যাস বন্ধ করে তেল কিছুটা ঠান্ডা করে নিতে হবে, যাতে সরষের তেলের অতিরিক্ত ঝাঁজ বা কাঁচা গন্ধ দূর হয়।
8
12
তেল হালকা ঠান্ডা হলে ফের গ্যাস জ্বালিয়ে দেড় চা চামচ পাঁচফোড়ন দিয়ে আমগুলো দিয়ে দিতে হবে। মাঝারি থেকে বেশি আঁচে ৪-৫ মিনিট নাড়াচাড়া করবেন৷
9
12
এরপর এতে মেশাতে হবে ১ কেজি চিনি (আম বেশি টক হলে চিনির পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে)। রঙের জন্য এক চা চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ও স্বাদের জন্য এক চা চামচ বিট নুন দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
10
12
চিনি গলতে শুরু করলে আঁচ একদম কমিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট রান্না করতে হবে। আম সিদ্ধ হয়ে চিনির রস ঘন হয়ে এলে আগে থেকে তৈরি করে রাখা ভাজা মশলা ছড়িয়ে দিতে হবে।
11
12
আচারের আয়ু বাড়াতে এবং দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এই পর্যায়ে দুই চা চামচ ভিনিগার মেশানো অত্যন্ত জরুরি। সবশেষে ভালোভাবে মিশিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
12
12
ঘরের তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে কাঁচের বয়ামে ভরে রাখলেই প্রস্তুত জিভে জল আনা মিষ্টি আমের আচার!