আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামান্য কয়েকটা টাকা, আর তা নিয়েই বিবাদের জেরে প্রাণ গেল এক পুলিশকর্মীর। স্যান্ডউইচের দাম মেটানো নিয়ে বচসার জেরে এক হেড কনস্টেবলকে কুপিয়ে খুন করা হল। অভিযোগ উঠল একদল যুবকের বিরুদ্ধে। গত ২৫ জানুয়ারি পাঞ্জাবের পাটিয়ালায় ঘটনাটি ঘটেছে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুই নাবালক-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত পুলিশকর্মীর নাম আমনদীপ সিং। তিনি পাটিয়ালার সিভিল লাইনস থানায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন ডিউটি ছিল না আমনদীপের। সাধারণ পোশাকে ভাইয়ের সঙ্গে একটি দোকানে খাবার খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই দাম মেটানো নিয়ে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আমনদীপ জানিয়েছিলেন, খাওয়া শেষ করে তিনি টাকা মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু ওই যুবক তা মানতে চায়নি। মুহূর্তের মধ্যে বচসা চরমে পৌঁছায়।

অভিযোগ, ঝগড়া চলাকালীনই ওই যুবক ফোন করে তার বন্ধুদের ডেকে পাঠায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে জনা ছয়েক যুবক এসে হাজির হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমনদীপের পিঠে ছুরি দিয়ে পরপর দু’বার আঘাত করা হয়। দাদাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তাঁর ভাইও। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আমনদীপকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্তদের পাকড়াও করেছে। অভিযুক্তদের নাম আশি, হীরা, রাহুল, কাইফ ও রিকি। সঙ্গে দুই নাবালককেও ধরা হয়েছে। পুলিশ সুপার বরুণ শর্মা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা স্থানীয় দুষ্কৃতী। তাদের মধ্যে তিনজনের নামে আগে থেকেই থানায় একাধিক অপরাধের মামলা রয়েছে। খবর অনুযায়ী, লুধিয়ানা-সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে এদের ধরা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কথায়, "একেবারেই তুচ্ছ কারণে মুহূর্তের উত্তেজনায় এই খুন করা হয়েছে। তবে অপরাধী যে-ই হোক, আইন থেকে পালানো যাবে না।"

অন্যদিকে, কিছুদিন আগেই পাঞ্জাবে চলন্ত সরকারি বাসে গুলি চালাল তিন দুষ্কৃতী। মঙ্গলবার ফিরোজপুর-ফাজিলকা রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে। গুলি লেগে বাসের কন্ডাক্টর আহত হয়েছেন। তবে চালক অল্পের জন্য রক্ষা পান। ঘটনার আকস্মিকতায় যাত্রীরা ভীষণ ভয় পেয়ে যান।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঞ্জাব রোডওয়েজের বাসটি ফিরোজপুর থেকে রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর যাচ্ছিল। পথে মোটরসাইকেলে আসা তিন হামলাকারী বাসটিকে লক্ষ্য করে দু'টি গুলি চালিয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সামনের দিকে বুলেটের দাগ রয়েছে। চালকের দিকের জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছে। সেই ভাঙা কাচের টুকরো লেগেই কন্ডাক্টরের পায়ে আঘাত লাগে।

ঘটনার পরই চালক বাস থামিয়ে দেন। বাসের মধ্যে থাকা যাত্রীরা হঠাৎ এমন হামলায় চিৎকার করতে থাকেন। ভয়ে দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন। একজন যাত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমরা নিরিবিলি যাচ্ছিলাম, হঠাৎ বাইকে আসা লোকগুলো বাসে গুলি চালাল। চালক একটু ঝুঁকে যাওয়ায় বেঁচে গেলেন।" পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য বাসটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।