আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফুলশয্যায় সদ্যোজাতর কান্নার আওয়াজ। যা শুনেই বিয়েবাড়িতে সকলের চোখ কপালে। বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরেই সন্তান প্রসব করে চমকে দিলেন নববধূ। ঘটনাটি ঘিরে হতবাক দুই পরিবারের সদস্যরা। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের রামপুর জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরেই সন্তানের জন্ম দেন নববধূ। ফুলশয্যার রাতেই ফুটফুটে সন্তানের মা হন তিনি। আজিমনগর থানার অন্তর্গত কুমারিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, কুমারিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিজওয়ান দিন কয়েক আগে বাহাদুরগঞ্জের এক তরুণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের আগেই তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ক্রমেই। দুই পরিবারের তরফে কথাবার্তার মাঝেই বিষয়টি থানায় পৌঁছয়। কয়কে সপ্তাহ আগেই মুরসাইনা থানায় হাজির হন তরুণী। প্রেমিকের সঙ্গে শীঘ্রই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চেয়েছিলেন তিনি। 

পুলিশের হস্তক্ষেপের পর দুই পরিবার বিয়েতে রাজি হয়। বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়। শনিবার সন্ধ্যায় বরযাত্রীদের নিয়ে বাহাদুরগঞ্জে হাজির হন রিজওয়ান। সমস্ত আচার, রীতি মেনেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেদিন রাতেই শ্বশুরবাড়িতে যান তরুণী। আচমকাই মধ্যরাতে নববধূর পেটে যন্ত্রণা শুরু হয়। বিয়েবাড়িতেও হুলস্থুল শুরু হয়। তড়িঘড়ি করে স্থানীয় এক মহিলা ডাক্তারকে ডেকে পাঠানো হয়। 

রবিবার সকালেই ঘটনাটি ঘটে। নববধূর ঘর থেকে এক সদ্যোজাতর কান্নার আওয়াজ শুনতে পান সকলে। দরজা খুলতেই জানা যায়, বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরেই ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন নববধূ। যা ঘিরে গোটা গ্রামে ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। চাক্ষুষ করতে গ্রামের বাসিন্দারাও বিয়েবাড়িতে ছুটে আসেন। 

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি। নববধূ ও সদ্যোজাত সন্তানের দেখভাল করছে দুই পরিবার। সন্তানটি তাঁর স্বামীর বলেই ধারণা পরিবারের। 

গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এই রাজ্যেই এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। শ্বশুরবাড়িতে পা রাখার পরেই বিপত্তি। সকলের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে আচমকা পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর, চিকিৎসক জানালেন, নববধূ অন্তঃসত্ত্বা। সেদিনই সন্তান প্রসব করতে হবে। বিয়ের ঠিক দু'দিন পরে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন নববধূ। এ ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল এলাকায়। তুমুল অশান্তি দুই পরিবারেও। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে। নববধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি শ্বশুরবাড়িতে পা রাখেন। সেদিনও একাধিক আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীরা মিলে তুমুল হুল্লোড় করেন। পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সকলকে চা করে খাওয়ান নববধূ। বিকেলের পরেই আবহ সম্পূর্ণ বদলে যায়। 

নববধূর পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। দু'ঘণ্টার মধ্যে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তরুণী। এই ঘটনায় হতবাক তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা। সদ্যোজাত নিজের সন্তান নয় বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী। এমনকী নববধূ ও তাঁর সন্তানকে ঘরে ঠাঁই দেবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন শ্বশুর ও শাশুড়ি। 

এদিকে নববধূর বাপের বাড়ির তরফে জানানো হয়, বিয়ের আগে থেকেই যুবকের সঙ্গে তরুণীর মেলামেশা চলছিল। সন্তানটিও যুবকেরই। গতবছর মে মাস থেকে তাঁদের দেখাসাক্ষাৎ হত। এদিকে যুবকের দাবি, গতবছর অক্টোবর মাসে তাঁদের বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়। সন্তানটি কোনওভাবেই তাঁর নয়। দুই পরিবারের মধ্যে ঝামেলা এখনও জারি রয়েছে। দামি গয়না ফেরত না দিলে নববধূর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুবক। এদিকে কন্যাসন্তানকে অস্বীকার করার ঘটনায় পাল্টা হুমকি দিয়েছে তরুণীর পরিবার। অশান্তির আবহে নববধূ সদ্যোজাতকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই চলে আসেন।