আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্র্যাচুইটির টাকা এবং রেলওয়ের চাকরি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নিল। মহারাষ্ট্রের থানে জেলার কল্যাণ এলাকা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ৩৫ বছরের এক গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরই শাশুড়ি, ৬০ বছরের লতাবাই নাথা গাঙ্গুর্ডেকে। এই ঘটনায় তাঁর সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৭ বছরের জগদীশ মহাদেব মাট্রে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রূপালি ভিলাস গাঙ্গুর্ডের স্বামী ভিলাস গাঙ্গুর্ডে রেলওয়ের কর্মী ছিলেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর রূপালি রেল দফতর থেকে প্রায় ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা গ্র্যাচুইটি পান। সেই টাকাই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মধ্যে তীব্র অশান্তি চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

নতুন বছরের প্রথম দিন, ১ জানুয়ারি সকালে কল্যাণের ওয়ালধুনি ব্রিজের কাছে এক মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত ছিল। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ধরে মহাত্মা ফুলে চক থানায় একটি অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট দায়ের করা হয় এবং দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

ঘটনায় নাটকীয় মোড় আসে, যখন লতাবাই গাঙ্গুর্ডে থানায় এসে দাবি করেন যে তাঁর পুত্রবধূ রূপালি সকাল ৮টা থেকে নিখোঁজ। পরে তিনিই শনাক্ত করেন যে ব্রিজের কাছে উদ্ধার হওয়া দেহটি রূপালির। তবে তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি নজরে আসে পুলিশের। ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল ইন্সপেক্টর বিজয় নায়কের নেতৃত্বে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

তদন্তে জানা যায়, গ্র্যাচুইটির টাকা ছাড়াও রেলওয়ের ‘কম্প্যাশনেট গ্রাউন্ডে’ চাকরি নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রবল বিরোধ ছিল। লতাবাই চাইছিলেন, তাঁর নাতি ভবিষ্যতে ওই চাকরি পাক, অথচ রূপালি নিজেই সেই পদে আবেদন করেছিলেন। এই দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত খুনের কারণ বলে পুলিশের অনুমান।

পুলিশের দাবি, ঘটনার আগের রাতে লতাবাই ও তাঁর বন্ধু জগদীশ মাত্রে  মিলে রূপালিকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর অভিযুক্তরা ঘরের রক্তের দাগ মুছে ফেলে, রূপালির রক্তমাখা জামাকাপড় বদলে দেয় এবং দেহটি গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে ওয়ালধুনি ব্রিজের কাছে ফেলে আসে। তদন্তকে বিভ্রান্ত করতে পরদিন নিখোঁজের অভিযোগও দায়ের করা হয়।

কল্যাণ ডিভিশনের সহকারী পুলিশ কমিশনার কল্যাণজি গেটে জানান, এটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত একটি খুন। তাঁর কথায়, “টাকা ও সরকারি চাকরির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লোভ থেকেই এই অপরাধ। অভিযুক্তরা তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছি।”

লতাবাই গাঙ্গুর্ডে ও জগদীশ মাট্রের বিরুদ্ধে খুন এবং প্রমাণ লোপাটের মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতে পেশ করে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ফের সামনে এল, সম্পত্তি ও চাকরি নিয়ে পারিবারিক সংঘর্ষ কীভাবে নির্মম পরিণতি ডেকে আনতে পারে।