আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুরাটের নামকরা প্রোমোটার তুষার ঘেলানির রহস্যমৃত্যু। এই ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার জেরে তাঁর 'বিজনেস পার্টনার' পুনম ভাদোরিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে উমরা থানার পুলিশ। অভিযোগ, পুনমের লাগাতার মানসিক ও আর্থিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই চরম পথ বেছে নিয়েছেন তুষার।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩১ জানুয়ারি রাতে নিজের লাইসেন্স করা রিভলবার থেকে গুলি চালান ওই প্রোমোটার। হাসপাতালে ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরেই তদন্তে নেমে পুলিশ একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়।
তুষারের পরিবারের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে পুনমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, কোনও বিনিয়োগ না থাকা সত্ত্বেও জোর খাটিয়ে একটি স্কুলের অর্ধেক মালিকানা এবং মোটা অঙ্কের বেতন হাতিয়ে নিয়েছেন ওই মহিলা। শুধু তাই নয়, জলি আর্কেডের দু’টি দামী দোকানও কোনও টাকা ছাড়াই নিজের নামে করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি তুষারের মেয়ের বিয়ে ছিল। তার ঠিক আগে ৩১ জানুয়ারি পুনম ফোনে হুমকি দেন যে, তিনি বিয়ের আসরে গিয়ে হাঙ্গামা করবেন এবং পরিবারটিকে অপদস্ত করবেন। এর আগেও সম্পত্তির অর্ধেক অংশ দাবি করে তিনি তুষারকে হেনস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ।
এসিপি জেড আর দেশাই জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের প্রমাণ মেলায় পুনমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে যখন খোদ পুনম পাল্টা দাবি করেন যে, তুষার আত্মহত্যা করেননি, বরং তাঁকে খুন করা হয়েছে। প্রোমোটারের পরিবারের বিরুদ্ধেই খুনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বর্তমানে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্যদিকে, পুলিশকে দেখে তড়িঘড়ি পালাতে গিয়েই বিপত্তি। পুণের বিমান নগর এলাকায় একটি স্পা সেন্টারে পুলিশের তল্লাশি চলছিল। এই তল্লাশি চলাকালীনই ঘটল চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। পাশাপাশি ঘটনার জেরে ওই স্পা-র ম্যানেজারও গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই স্পা-র আড়ালে মধুচক্র চালানো হচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই স্পা সেন্টারে হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। জানা গিয়েছে, তল্লাশি চলাকালীন বিভিন্ন ঘরে তরুণী ও খদ্দেরদের দেখা মেলে। তদন্তকারীরা একটি ঘরে ঢুকলে সেখানে দুই মহিলার সঙ্গে ম্যানেজারকে দেখতে পান। পুলিশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওই মহিলা ও ম্যানেজার দোতলার জানালা দিয়ে নীচে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থলেই মহিলার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আহত ম্যানেজারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, পুলিশ পরে ওই স্পা সেন্টার থেকে চারজন তরুণীকে উদ্ধার করেছে। সংশ্লিষ্ট স্পা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নীতি-বহির্ভূত দেহব্যবসা বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
