আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমিষ খাওয়ার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের একটি মন্দিরের পুরোহিতকে সরিয়ে দেওয়া হল। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। যদিও সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডিজিটাল।
ঘটনাটি কেশবপুরম এলাকার বাবা শ্রী ভূটেশ্বর ধাম মন্দিরের বলে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ছবিতে মন্দিরের পুরোহিত প্রশান্ত গিরিকে আমিষ খাবার খেতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কিছু মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
অনেকে দাবি করেন, মন্দিরের পুরোহিত হয়ে মাংস খাওয়া ধর্মীয় নিয়মের পরিপন্থী। হিন্দু ধর্মীয় ধারায় মনে করা হয়, মন্দিরের পুজা করার সময় শরীর ও মনকে ‘শুদ্ধ’ রাখতে হয়। সেই কারণে নিরামিষ খাবারকে বেশি পবিত্র বলে ধরা হয়।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বা মহন্ত সন্তোষ গিরি জানিয়েছেন, ভাইরাল ছবিতে থাকা ব্যক্তি তাঁর ছেলে প্রশান্ত গিরি। তিনি ‘গোলু পণ্ডিত’ নামেও পরিচিত। সন্তোষ গিরি বলেন, তিনি নিজেই মন্দিরের মহন্ত। তাঁর ছেলে নয়। মাংস খাওয়ার খবর জানার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ছেলেকে মন্দিরের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করেছেন। তার মতে, মন্দিরের নিয়ম মানা প্রত্যেক পুরোহিতের জন্য বাধ্যতামূলক।
সন্তোষ গিরির দাবি, ঘটনাটির পরে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রার সঙ্গে থাকা কিছু মানুষ তাঁর ছেলেকে মারধর করে। তিনি অভিযোগ করেছেন, কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি প্রশান্ত গিরিকে মন্দির থেকে বের করে দেয় এবং তাঁকে সেখানে থাকতে নিষেধ করে। এই সময় পরিবারের সদস্যরাও রোষের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। সন্তোষ গিরি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাঁদেরও মারধর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন মানুষ মন্দিরের সামনে জড়ো হয়। তাঁরা পুরোহিতের কাছে ভাইরাল ছবির ব্যাখ্যা চায়। প্রশান্ত গিরি বাইরে আসতে দেরি করলে কিছু মানুষ মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে। পরে তাঁকে বাইরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় প্রশান্ত গিরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, মন্দিরের একটি ঘরেই প্রশান্ত গিরি থাকতেন। সেখান থেকেই তিনি নিয়মিত পুজো–অর্চনার কাজ করতেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন সন্তোষ গিরি। তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁর ছেলে কোথায় আছে তিনি জানেন না। এই ঘটনার পরে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
