আজকাল ওয়েবডেস্ক: অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির একটি ঘটনার উল্লেখ ঘিরে সরকারের শীর্ষস্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্র অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য তৈরি পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতির একটি ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আপত্তি তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন বিষয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর জন্য কতটা উপযুক্ত এবং কী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই বিষয়বস্তু প্রকাশের অনুমোদন পেল।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি সম্পর্কে কী শেখাচ্ছি?’

একইসঙ্গে তিনি নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, শ্রেণিকক্ষে পৌঁছনোর আগে এই ধরনের বিষয়বস্তু কে বা কারা খতিয়ে দেখছেন এবং অনুমোদন দিচ্ছেন। সূত্র জানায়, পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, যা এখন সরকারের অভ্যন্তরে পর্যালোচনার আওতায় এসেছে।

অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই ঘিরে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শীর্ষ আদালত National Council of Educational Research and Training (এনসিইআরটি) প্রকাশিত পাঠ্যবইটির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব ও এনসিইআরটি-র পরিচালকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি  ভি এম পাঞ্চোলি। আদালত প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে জানায়, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের বিষয়বস্তু ‘গুরুতর অসদাচরণ’-এর পর্যায়ে পড়তে পারে।

যদি প্রমাণিত হয় যে বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে, তবে আদালত অবমাননা আইন বা অন্যান্য আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—বইটির আর কোনও মুদ্রণ, পুনর্মুদ্রণ বা ডিজিটাল প্রচার চলবে না। ইতিমধ্যে ছাপা হওয়া সব কপি বাজেয়াপ্ত করে জনসমক্ষে থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এনসিইআরটি কেন্দ্র ও রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে গুদাম, বিপণন কেন্দ্র ও স্কুল—সব জায়গা থেকে বইয়ের মুদ্রিত ও সফট কপি উদ্ধার করবে এবং তা সিল করে দেবে।

দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই নির্দেশ কার্যকর করার ব্যক্তিগত দায় থাকবে এনসিইআরটি-র পরিচালক এবং যেসব স্কুলে বই পৌঁছেছে সেখানকার প্রধান শিক্ষকদের উপর।

সংশ্লিষ্ট বইয়ের ভিত্তিতে কোনও পাঠদানও চলবে না। বেঞ্চ সতর্ক করে দেয়, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বা নাম বদলে বইটি ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে তা আদালতের নির্দেশ অমান্য হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট অধ্যায়টি কারা রচনা করেছেন, তাঁদের নাম ও যোগ্যতার বিবরণ এবং যে বৈঠকে বিষয়বস্তু চূড়ান্ত হয়েছে তার কার্যবিবরণী আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানির সময় আদালত এনসিইআরটি-র পূর্ববর্তী জবাবের ভাষা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অধ্যায়টিতে বিচারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যাতে নিষ্ক্রিয়তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এবং প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা আর গাভাই-এর মন্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়েছে।

বেঞ্চের মতে, এতে ‘প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা খর্ব করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা’-র ইঙ্গিত মিলছে। তবে একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা বৈধ সমালোচনা স্তব্ধ করতে চায় না।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিচারব্যবস্থা-সহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনা নাগরিকের অধিকার—এ কথা বেঞ্চ উল্লেখ করে।