আজকাল ওয়েবডেস্ক: আদতে একটা বিমানবন্দর। কিন্তু একটিও বিমান চলাচল করে না। এ দিকে ভারতের 'এয়ারপোর্ট কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন ইনডেক্স'-এ শীর্ষস্থানে জ্বলজ্বল করছে মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো বিমানবন্দরের নাম। এই বিরল ঘটনা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু বিমানসংস্থাগুলির মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। যা সম্প্রতি নানা সংবাদমাধ্যমে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যেই বিমানবন্দরে কোনও বিমান চলাচল করেনা, তা কী করে এখনও শীর্ষস্থানে? জানা গিয়েছে, খাজুরাহো বিমানবন্দরটি আগে দিল্লি ও বারাণসীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে গত ১ জুলাই থেকে পরিস্থিতি বদলেছে। বিমানবন্দরে সমস্ত নির্ধারিত বিমান পরিষেবা স্থগিত রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর মাসের আগে সেখানে নতুন করে কোনও বিমান চালু হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
সরকারি সংস্থা এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বছরে দু'বার এই ইনডেক্স তালিকা প্রকাশ করে। বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, কর্মীদের ব্যবহার এবং শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতার মতো মোট ৩৩টি মাপকের উপর নির্ভর করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়। ইনডেক্স তালিকায় বিমান বা ট্রাফিকের সংখ্যা কিংবা গন্তব্যের মধ্যে কানেক্টিভিটিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এর ফলে কোনও ফ্লাইট না থাকা সত্ত্বেও যাত্রী পরিষেবার মান এবং ভিড় না থাকায় এই বিমানবন্দরটি শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
দিল্লির মতো বড় বিমানবন্দরগুলিতে যেখানে প্রতি বছর কোটিরও বেশি যাত্রীর চাপ সামলাতে হিমশিম খায়। সেখানে ছোট বিমানবন্দরগুলিতে দীর্ঘ লাইন, যানজট এবং ব্যাগেজ নিয়ে নানা সমস্যায় জেরবার হতে হয় না। খাজুরাহোতে কম যাত্রী থাকার কারণে স্বভাবতই ভ্রমণকারীরা কম বিরক্ত হন। পরিষেবার মানও ভালো দেখায়। তাই শীর্ষস্থানে রয়েছে খাজুরাহো বিমানবন্দর।
বিমানবন্দরের এই কৃতিত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে হাসিঠাট্টা ও কড়া সমালোচনা। কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেছেন, "সম্ভবত নিখুঁত সুশাসনের রহস্যও খুবই সহজ। যাত্রী, পরিষেবা কিছুই না থাকায় কোনও অভিযোগও নেই। কেবল 'স্যাটিসফ্যাকশন'ই রয়েছে।" সমাজমাধ্যমে আরও একজন ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, "ভারতের শীর্ষ র্যাঙ্কপ্রাপ্ত খাজুরাহো বিমানবন্দরে পৌঁছতে চাইলে ট্রেনে করে খাজুরাহো স্টেশনে যেতে হবে। তারপর ১০ মিনিটের রিকশা রাইড নিতে হবে। কারণ ওই বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে কোনও বিমান ওড়ে না।" এছাড়া কম ব্যবহৃত বিমানবন্দর রক্ষণাবেক্ষণে কোটি কোটি টাকা অপচয় নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে।
















