আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লি থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে আসছে। আজ, বৃহস্পতিবার ঠিক বিকেল ৪টের সময় রাজধানী দিল্লির নবনির্মিত 'সেবা তীর্থ' ভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি জরুরি ও বিশেষ বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এখন চরম তৎপরতা। সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এই সময়কালের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে দেশের রাজধানীতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে সরকারের অন্দরে বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেই এই বিশেষ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। আজকের এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং সমস্ত দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সহ পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পরিষদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রধান উদ্বেগ, অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভারতের অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েই এই বৈঠকে মূল আলোচনা হতে পারে।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা, জ্বালানি সরবরাহের চেইন সচল রাখা এবং এর ফলে দেশের বাজারে যাতে মুদ্রাস্ফীতি বা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি কোনও চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক। জানা গেছে, বিদেশ থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী এই গোটা পরিস্থিতি নিজেই খতিয়ে দেখছেন। ইতিমধ্যেই এই সংকট মোকাবিলায় এবং ভারতের অর্থনীতিকে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রী গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ গোষ্ঠীতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং অবশ্য আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, সরকার চব্বিশ ঘণ্টা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অপরিশোধিত তেল, শক্তি বা এলপিজি—যাই হোক না কেন, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই আপদকালীন কোনও  সংকটের আশঙ্কা নেই।

তবে এই বৈঠকটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কারণেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও এক বিরাট তাৎপর্য বহন করছে। আগামী ১০ই জুন মোদি ৩.০ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। আর তার ঠিক আগেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একটি বড়সড় রদবদল এবং সম্প্রসারণ হতে পারে। সরকারি সূত্র মারফত ইঙ্গিত মিলেছে যে, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই মন্ত্রী পরিষদে এই রদবদল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পারে, যা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্দরে আলোচনা এখন তুঙ্গে। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিটি মন্ত্রকের কাজের খতিয়ান এবং সাংগঠনিক পারফরম্যান্সও খতিয়ে দেখছেন বলে খবর। ফলে আজকের এই বৈঠকটি একদিকে বিশ্ব সংকটের আবহে দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা, আর অন্যদিকে আগামী দিনে সরকারের নতুন রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে।