আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার দেশের নাগরিকদের প্রস্তুত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি কোভিড-১৯ অতিমারির মোকাবিলায় দেশবাসী যেভাবে ঐক্যবদ্ধ ছিল তার উদাহরণ দিয়েছেন। লোকসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে যে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”
সোমবার লোকসভায় মোদি বলেন, “বর্তমান এই সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট কঠিন পরিস্থিতির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোভিড অতিমারির সময়েও আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি। ঠিক একইভাবে, এবারও আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের প্রতিটি প্রতিকূলতার মোকাবিলা ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে করতে হবে। এটাই আমাদের পরিচয়, আমাদের শক্তি।”
মোদি এও উল্লেখ করেছেন যে, অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তিনি রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক থাকতে এবং যারা ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে ও মজুতদারি এবং কালোবাজারিতে লিপ্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “যখন এমন সঙ্কট দেখা দেয়, তখন কিছু মানুষ অন্যায় সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সমস্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে। উপকূলীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা বা কৌশলগত ঘাঁটি, সব কিছুর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। যদি দেশের প্রতিটি সরকার এবং প্রতিটি নাগরিক একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা প্রতিটি প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারব।”
পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিণতির ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, ভারত বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত কয়েকদিনে বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই বিষয়ে সংসদকে অবহিত করেছেন। এখন এই সঙ্কট তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এর বিরূপ প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়তে শুরু করেছে। তাই, এই সঙ্কটের দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সব দলকে আহ্বান জানাচ্ছি।”
হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই সংসদে স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার লোকসভায় জানান, ভারত জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে এখন অনেকটাই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের কাছে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। তা যাতে ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়ানো যায় সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
