আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার দেশের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সকলের সঙ্গেই কথা বলতে চান। তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি থেকে শুরু করে এলপিজি গ্যাসের পরিস্থিতি কেমন রয়েছে সেবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। ভারত কীভাবে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের মোকাবিলা করবে তারও রূপরেখা থাকবে শুক্রবারের বৈঠকে।
সন্ধ্যে সাড়ে ছটা নাগাদ হবে এই বৈঠক। দেশের বর্তমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের উপর জোর দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবারের বৈঠকে তিনি “টিম ইন্ডিয়া”র চেতনার কথা তুলে ধরে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবেন বলে সূত্রের খবর।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের জ্বালানি, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার উপর কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—এমন পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিতভাবে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সেই কারণেই “টিম ইন্ডিয়া” ধারণার মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেওয়া হবে। এতে নীতি নির্ধারণ থেকে বাস্তবায়ন—সব ক্ষেত্রেই গতি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে কন্টিনজেন্সি প্ল্যানিং বা জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া বা মূল্যবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের সব রাজ্য অংশ নিতে পারছে না। যেসব রাজ্যে বর্তমানে নির্বাচন চলছে, সেখানে মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (আচরণবিধি) কার্যকর থাকায় সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না। এটি নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক।
তবে সেই রাজ্যগুলিকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওইসব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করা হবে। এই বৈঠকটি ক্যাবিনিটে সেক্রেটারিদের মাধ্যমে আয়োজিত হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই যে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব, সেই বার্তাই দিতে চাইছে সরকার।
















