আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক জনসভা থেকে কংগ্রেসকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার বেঙ্গালুরুতে ঘটেছে৷ হাত শিবিরকে ‘পরাশ্রয়ী’ (প্যারাসাইটিক) আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই দল শুধু মিত্রপক্ষকে ঠকানো আর আঞ্চলিক দলগুলোর ওপর ভর করে টিকে থাকতেই জানে।

তামিলনাড়ুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আবহে মোদির এই মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। সেখানে ডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধে ভোট লড়লেও, সরকার গড়ার সময় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কড়গম’ (টিভিকে)-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কংগ্রেস। রবিবার চেন্নাইয়ে বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির ছিলেন রাহুল গান্ধিও।

এ দিন ‘আর্ট অফ লিভিং’ ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কর্ণাটকে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘ভুয়ো গ্যারান্টি’ আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে কংগ্রেসের ওপর থেকে মানুষের ভরসা উঠে গিয়েছে।

তাঁর দাবি, ইদানীং কোনও রাজ্যেই কংগ্রেস সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরতে পারছে না। মোদির কথায়, “সরকার গড়ার কয়েক মাসের মধ্যেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়। কারণ ওরা শুধু বিশ্বাসঘাতকতা করতে জানে। কংগ্রেসের খাতায় সুশাসন বলে কিছু নেই।” ডিএমকে-র সঙ্গ ত্যাগ করায় কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের অন্য দলের 'খুঁটি' প্রয়োজন।

অন্যদিকে, রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। গত ৬০ বছরে এই প্রথম ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র বাইরে অন্য কোনও দল রাজ্যের ক্ষমতায় এল। রাহুল গান্ধির উপস্থিতিতে বিজয় ঘোষণা করেন, রাজ্যে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের শাসন শুরু হল। উল্লেখ্য, বিজয় এর আগেই বিজেপি-কে তাঁর ‘আদর্শগত শত্রু’ বলে ঘোষণা করেছেন।

নিজের প্রথম মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণদেরও জায়গা দিয়েছেন ৫১ বছর বয়সী বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ-সহ একাধিক জনমুখী ফাইলে সই করেন তিনি। আবেগঘন গলায় বিজয় জানান, কোনও রাজবংশ নয়, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদেই আজ তিনি এই চেয়ারে।