আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। সম্প্রতি দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের পাঠানো একটি চিঠিতে ইউজিসি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাইছেন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি (HEIs) সরাসরি সরকারি বিভিন্ন সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করুক। একই সঙ্গে, বর্তমান সময়ের সাথে তাল মেলাতে সাংবাদিকতা ও বিজ্ঞাপন পাঠ্যক্রমেও আমূল পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশে ইউজিসি সচিব মণীশ আর যোশী এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন। চিঠির মূল বিষয়বস্তু ছিল সরকারি সমীক্ষায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ এবং সাংবাদিকতার সিলেবাস পর্যালোচনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব। ইউজিসি-র এই চিঠিতে বলা হয়েছে যে, কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক, যেমন পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ন মন্ত্রক বা স্বাস্থ্য মন্ত্রক যেসব জাতীয় স্তরের সমীক্ষা চালায়, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে 'চ্যালেঞ্জ মোড'-এ যুক্ত করা হতে পারে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস (NSSO) বা ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের (NFHS) মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এই কাজে পড়ুয়ারা ঠিক কী ভূমিকা পালন করবেন—তাঁরা কি কেবল তথ্য সংগ্রহ করবেন নাকি সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণ করবেন, তা নিয়ে চিঠিতে স্পষ্ট কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
&t=1sপাশাপাশি, সাংবাদিকতার পাঠ্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, এই কোর্সটিকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে এর সিলেবাস পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে ইউজিসি এবং এআইসিটিই-র (AICTE) আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদিও ঠিক কী ধরনের বদল আনা হবে বা কেন এই পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ল, সে বিষয়ে চিঠিতে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা নেই।
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষামহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একাংশের মতে, সরকারি সমীক্ষায় যুক্ত হলে পড়ুয়ারা বাস্তব পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের প্রশ্ন—সাংবাদিকতার মতো একটি স্বাধীন বিষয়ের সিলেবাসে ঠিক কী ধরনের ‘কার্যকর’ বদল আনা হচ্ছে? তাঁদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই নির্দেশিকা কীভাবে কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
















