আজকাল ওয়েবডেস্ক: উচ্চশিক্ষার কদর দেশে ঠিক কতটুকু, তা নিয়ে আরও একবার বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল ই তিরুমালাই রাজা নামের এক ব্যক্তির জীবনের গল্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক রেল কর্মকর্তার করা একটি পোস্টের মাধ্যমে সামনে এসেছে এই পিএইচডি ডিগ্রিধারীর রূঢ় বাস্তব। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাহাড় নিয়েও কীভাবে জীবনধারণের জন্য তাঁকে ক্লাসরুমের বাইরে ট্যাক্সির স্টিয়ারিং ধরতে হচ্ছে, সেই লড়াই ছুঁয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষকে। একই সাথে এই ঘটনা চুক্তিভিত্তিক ও অতিথি অধ্যাপকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও তীব্র অনিশ্চয়তার ছবিটাকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
অনন্ত রূপনগুড়ি নামের এক ভারতীয় রেল কর্মকর্তা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিরুমালাই রাজার জীবনবৃত্তান্ত শেয়ার করে লেখেন, "অনুগ্রহ করে একটু জুম করে ওঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সাফল্যগুলো দেখুন, যা কোনও মাপকাঠিতেই ছোট নয়। উনি শুধু সঠিক সুযোগটি পাননি। যদি কারও কাছে ওঁর যোগ্যতার উপযুক্ত কোনও কাজ থাকে, তবে ওঁর সাথে যোগাযোগ করুন।" সেই পোস্টে দেখা যায়, রাজার ঝুলিতে রয়েছে ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি, এমফিল, এমএ এবং মনোবিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রি। এ ছাড়াও রয়েছে বিএড ও শিক্ষক শিক্ষণ ডিপ্লোমা। ভারতের ইংরেজি সাহিত্যে 'ব্ল্যাক হিউমার' বা রসাত্মক রচনা নিয়ে তিনি পিএইচডি-র গবেষণা করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বহু সেমিনারে গবেষণাপত্র পাঠ করা ছাড়াও একাধিক নামী জার্নালে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবেও কাজ করেছেন।
ভাইরাল হওয়া পোস্টটি থেকে জানা যায়, আগে নামাক্কালের একটি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে মাসে মাত্র ২০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন রাজা। বর্তমানে তিনি চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজে চুক্তিভিত্তিক লেকচারার হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে তাঁর মাসিক বেতন মাত্র ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি। বর্তমান বাজারে এই সামান্য আয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হওয়ায়, পড়ানোর ফাঁকে যখনই সময় পান, তিনি ওলা-উবারের মতো ক্যাব চালান। শুধু আর্থিক টানাটানিই নয়, কাজের তাগিদে তাঁকে পরিবার থেকেও দূরে থাকতে হচ্ছে। রাজা নিজে চেন্নাইয়ে থাকলেও তাঁর স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তান এখনও নামাক্কালেই থাকেন।
এই পোস্টটি ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ডক্টর রাজার এই অদম্য লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন, আবার অনেকেই দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, "চেন্নাইয়ের মতো জায়গায় এত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষকে ক্যাব চালাতে হচ্ছে, এটা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।" অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "শিক্ষা এখন পুরোপুরি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যেখানে শুধুই মুনাফা খোঁজা হয়।" কেউ কেউ আবার কেরল বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের উদাহরণ টেনে বলেছেন যে, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েও বাসের কন্ডাক্টর, অটো ড্রাইভার কিংবা দিনমজুরের কাজ করার দৃশ্য এখন আর এ দেশে নতুন কিছু নয়। রাজার এই লড়াই যেন ভারতের কোটি কোটি বেকার ও যোগ্য যুবকের এক জীবন্ত প্রতীক।
















