ভারতের রেল পরিবহণে ইতিহাস তৈরি হল। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রথম সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে নির্মিত হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেন।
2
14
এই ট্রেনটি উত্তর রেলের জিন্দ-সোনিপত শাখায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই কয়েকটি দেশের কাতারে নাম লেখাল, যারা রেল পরিবহণে হাইড্রোজেন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
3
14
জার্মানি, জাপান, চিন ও আমেরিকার পর এবার ভারতও পরিবেশবান্ধব রেল প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করল।
4
14
এই হাইড্রোজেন ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি ডিজেল ইঞ্জিনের মতো জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে না। বরং ট্রেনের ভিতরে থাকা ১,২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
5
14
সেই বিদ্যুৎ ট্রেনের মোটর চালায়। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় না। উপজাত হিসেবে তৈরি হয় শুধু জলীয় বাষ্প এবং তাপ, ফলে এটি অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব।
6
14
ট্রেনের দুটি সংরক্ষিত হাইড্রোজেন গ্যাস রাখা হয়েছে। ফুয়েল সেলের ভিতরে হাইড্রোজেন অণু ভেঙে প্রোটন ও ইলেকট্রনে বিভক্ত হয়। প্রোটন বিশেষ ঝিল্লির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, আর ইলেকট্রন বাহ্যিক বৈদ্যুতিক সার্কিট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
7
14
পরে বাতাস থেকে নেওয়া অক্সিজেনের সঙ্গে এই প্রোটন ও ইলেকট্রনের বিক্রিয়ায় তৈরি হয় জলীয় বাষ্প। পুরো প্রক্রিয়াতেই কোনও দহন হয় না, ফলে দূষণের মাত্রা কার্যত শূন্য।
8
14
এই ট্রেনে ব্যাটারিও ব্যবহার করা হয়েছে। ফুয়েল সেল থেকে উৎপন্ন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ এই ব্যাটারিতে জমা থাকে। ট্রেনের গতি বাড়ানোর সময় ব্যাটারি অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ করে এবং ব্রেক করার সময় পুনরুদ্ধার হওয়া শক্তিও এতে সঞ্চিত হয়। ফলে জ্বালানির ব্যবহার কমে এবং ট্রেনের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
9
14
হাইড্রোজেনের শক্তি ঘনত্ব ডিজেলের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতি কিলোগ্রাম হাইড্রোজেনে প্রায় ১২০ মেগাজুল শক্তি থাকে, যেখানে ডিজেলে থাকে প্রায় ৪৩ মেগাজুল। ফলে কম জ্বালানিতে বেশি কর্মক্ষমতা পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের খরচও তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
10
14
এই প্রকল্পের জন্য হরিয়ানার জিন্দে ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রায় ৩,০০০ কেজি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা যায়।
11
14
১০ কোচের এই ট্রেনে রয়েছে দুটি হাইড্রোজেন পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রী কোচ। প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী বহনের ক্ষমতা রয়েছে। সর্বোচ্চ পরিচালনগত গতি ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, যদিও নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। ট্রেনটি জিন্দ জংশন, গোহানা জংশন এবং সোনিপতের মধ্যে চলাচল করবে।
12
14
নিরাপত্তার জন্য ট্রেনে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, অগ্নি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় গ্যাস বন্ধ করার প্রযুক্তি, উন্নত বায়ুচলাচল ব্যবস্থা এবং রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদরাও ট্রেনের সঙ্গে থাকবেন।
13
14
রেল গবেষণা, নকশা ও মান নির্ধারণ সংস্থার প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রকল্প 'আত্মনির্ভর ভারত' এবং ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন-এর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
14
14
সফল হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় রেলে আরও বড় পরিসরে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর পথ সুগম হবে এবং দেশের নেট-জিরো নির্গমন লক্ষ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।