আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাসপোর্ট নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনও নথি নয়। স্পষ্ট করল বিদেশ মন্ত্রক। 'পাসপোর্ট সেবা দিবস'-এর ১৪তম বার্ষিকীতে এই ঘোষণা করল বিদেশ মন্ত্রক।
নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ আসলে কী? তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক। কেন্দ্রের এই ঘোষণায় সেই অস্পষ্টতা আরও বেড়ল। তা হলে ভারতীয় নাগরিকের চূড়ান্ত প্রামাণ্য নথি কোনটি? যার সুনির্দিষ্ট কোনও সমাধান কেন্দ্রীয় সরকার এখনও দেয়নি।
'পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়'
বুধবার বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, পাসপোর্ট মূলত সরকারের দেওয়া একটি ভ্রমণ নথি, যা আন্তর্জাতিক যাতায়াত সহজতর করে। এর অর্থ হল, পাসপোর্ট থাকলেই যে কেউ এ দেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন, তা নয়।
ভারতের পাসপোর্ট কেবল বৈধ নাগরিকদেরই দেওয়া হয়। বৈধ নাগরিক না হলে কারও পক্ষে ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়। এদিকে ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্বেরও সুযোগ নেই। কিন্তু, পাসপোর্ট হাতে পাওয়া মানেই যে আপনি এর মালিক, তা নয়। পাসপোর্টের পেছনের পাতায় উল্লেখ থাকে যে এটি "ভারত সরকারের সম্পত্তি" এবং সরকার নির্দেশ দিলে তা জমা দিতে হবে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়ার (এসআইআর) শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চিত করেছিল যে, আধার কার্ড নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তা কেবলই একটি পরিচয়পত্র। ভোটার আইডি কার্ডকেও নাগরিকত্বের নথি হিসেবে গণ্য করা হয় না। এটি মূলত পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণপত্র এবং নির্বাচনের সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেয়।
নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি যদি ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি বা তার পরে এবং ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তিনি জন্মসূত্রে ভারতীয়।
আর ১৯৮৭ সালের জুলাইয়ের পরে জন্মগ্রহণকারী কোনও ব্যক্তি নাগরিকত্বের দাবি করতে পারেন যদি তাঁর বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজন ভারতীয় নাগরিক হন। তবে ২০০৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বা তার পরে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের দাবি তখনই করা যাবে, যদি বাবা-মা উভয়েই ভারতীয় হন অথবা বাবা-মায়ের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং অন্যজন জন্মের সময় অবৈধ অভিবাসী না হন।
সরকারের তথ্য প্রকাশ
বুধবার বিদেশ মন্ত্রক ভারতের পাসপোর্ট পরিষেবা নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে চিপ-যুক্ত ই-পাসপোর্টের সফল প্রবর্তন। বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "২০২৫ সালে ১ কোটি ৫০ লক্ষ পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল পাসপোর্টের সংখ্যাই ছিল ১ কোটি ৩৯ লক্ষ।"
পাশাপাশি, বিদেশ মন্ত্রক উল্লেখ করেছে যে, পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণের গড় সময়ও কমে এসেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময়টুকু বাদ দিলে এখন ছয় কর্মদিবসের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যাচ্ছে। ওই কর্মকর্তা জানান, পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রগুলোতে নাগরিকদের এখন গড়ে ৪৫ মিনিটেরও কম সময় ব্যয় করতে হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের ওই কর্মকর্তার মতে, প্রক্রিয়াকরণের সময় কমে আসার মূল কারণ হল পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা ছয় গুণ বৃদ্ধি পাওয়া। এক দশক আগে যেখানে মাত্র ৭৭টি পাসপোর্ট কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে সারা দেশে ভারতের পাসপোর্ট কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৫।















