পুনের ঐতিহাসিক লোহাগড় কেল্লায় ২৪ বছরের তরুণ ব্যবসায়ী কেতন বিশাল অগরওয়ালের খুনের তদন্তে ফাঁস হল বিরাট এক সত্যি। পুনের এই নামি ব্যবসায়ীর খুনের তদন্তে যত দিন যাচ্ছে, ততই সামনে আসছে ওঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং ওঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর একের পর এক হাড়হিম করা ষড়যন্ত্রের গল্প। গত ১৮ই জুন লোনাভলার বিখ্যাত লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে খুন করা হয়েছিল কেতনকে। প্রথমে সিয়া এটিকে ‘ছবি তোলার সময় দুর্ঘটনাবশত পড়ে যাওয়া’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, পুলিশের জেরায় ধরা পড়ে যায় গোপন  সত্যি।

তবে তদন্তে সবচেয়ে বড় যে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উঠে এসেছে, তা হলো— ১৮ই জুন তাঁদের 'অপারেশন' সফল হওয়ার ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ১৪ই জুনও কেতনকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে মারার প্রথম চেষ্টা করেছিল সিয়া! কিন্তু সেবার অলৌকিকভাবে কেতন বেঁচে যান তিনি! তা সত্বেও কেন হবু স্ত্রীর ওপর কোনও সন্দেহ হয়নি কেতনের? রহস্য ফাঁস করলেন কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল।

তদন্তকারীদের মতে, কেতনকে খুন করার ছক সিয়া অনেক আগেই কষে ফেলেছিল। গত ১৪ই জুন তাঁরা যখন প্রথমবার লোহাগড় দুর্গে যান, তখনই কেতনকে খাদের একদম কিনারায় নিয়ে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে সিয়া। কিন্তু সেই যাত্রা ভাগ্যক্রমে কেতন একটি গাছের ডাল ধরে ফেলায় গভীর খাদে পড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যান।


পাহাড় থেকে পড়ে মরতে মরতে বেঁচে ফিরেও কেন কেতন সিয়াকে সন্দেহ করলেন না? কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল বললেন, “১৪ই জুন যখন ও বেঁচে ফিরে আসে, তখন সিয়া ওঁর কাছে একটা মনগড়া গল্প ফাঁদে। সিয়া কেতনকে বোঝায় যে ওঁর ঠিক পেছনে একটা বিষাক্ত সাপ চলে এসেছিল! সেই সাপের হাত থেকে কেতনকে বাঁচানোর জন্যই নাকি ও তাড়াহুড়ো করে ধাক্কা দিয়েছিল। হবু স্ত্রীর এই সাপের গল্প এবং ভালবাসার অভিনয় এতটাই নিখুঁত ছিল যে কেতন বিন্দুমাত্র সন্দেহ করতে পারেনি যে ওঁর ভালবাসার মানুষটিই আসলে ওঁর যম!”


পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, সিয়া গত ৩১শে মে কেতনের সাথে প্রথমবার লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়েছিল। খাড়া পাহাড় আর গভীর খাদ দেখে তখনই ওঁর মাথায় আসে যে, কেতনকে এখান থেকে ফেলে দিলে খুব সহজেই তাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে। আর সেই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ীই ১৮ই জুন প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে কেতনকে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দেয় সিয়া। বর্তমানে সিয়া ও চেতন দুজনকেই আগামী ২৯শে জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ধুমধাম করে বাগদান হয়েছিল কেতন ও সিয়ার। আগামী নভেম্বর মাসে রাজস্থানে তাঁদের রাজকীয় বিয়ের আসর বসার কথা ছিল। বিয়ের আগে আগামী ৬ই জুন চার বন্ধুর সঙ্গে বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য যাওয়ার সমস্ত টিকিট ও বুকিং পাকা হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু সিয়া কোনওভাবেই চাইছিল না কেতন দেশের বাইরে যাক। তাই বালি যাওয়ার ঠিক আগে সিয়া চালাকি করে কেতনের পাসপোর্টটাই চুরি করে নেয়! বিশাল আগরওয়াল বলেন, “চারজন একসঙ্গে বালির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিল, কিন্তু রহস্যজনকভাবে শুধু কেতনের পাসপোর্টটাই চুরি হয়ে যায়। বিমানবন্দরে গিয়েও পাসপোর্ট না থাকায় কেতনকে বাধ্য হয়ে চোখের জল ফেলে বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছিল। আমরা তখন ভাবতেও পারিনি এটা সিয়ার কোনও বড় চাল ছিল।” আসলে সিয়া কেতনকে দেশেই রাখতে চেয়েছিল যাতে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে ওঁর খেল খতম করা যায়।