আজকাল ওয়েবডেস্ক: একসময় দু-চাকার গাড়িতে করে পণ্য ডেলিভারির কাজ করতেন। পকেটে ছিল না পর্যাপ্ত টাকা। পেট্রল পাম্পে গিয়ে গাড়িতে মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে তেল ভরার জন্যও করতে হত অনুরোধ। পকেটে টান পড়লেও দু'চোখে ছিল স্বপ্ন। অভাবী দিনগুলি পেরিয়ে কুনাল শাহই ছিলেন ভারতের অন্যতম সফল স্টার্ট-আপ 'ক্রেড'-এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সম্প্রতি 'মেটা'-র চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক জাকারবার্গ সেই কুনাল শাহকে হোয়াটসঅ্যাপের 'গ্লোবাল হেড' হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। জানিয়েছেন শুভেচ্ছাও।
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের ৫০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও গত ৬ বছরে ৬.৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করেও 'হোয়াটসঅ্যাপ পে' দিয়ে আর্থিক লেনদেন বাজারে তেমন সুবিধা করতে পারেনি মেটা। অন্যদিকে, কুনাল শাহের 'ক্রেড'-এ ২০২০ সালের মাত্র ১০ লক্ষ মেম্বার থেকে আজ ১ কোটি ৭০ লক্ষ মেম্বারে পৌঁছেছে এবং বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন করেছে। ২০২৬ সালে তিন মাসের মধ্যেই কোম্পানিটি ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের পরিচালন রাজস্ব-সহ প্রথমবার লাভের মুখ দেখেছে। মেটা মূলত কুনালের এই ব্যবসায়িক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই হোয়াটসঅ্যাপের বিপুল ব্যবহারকারীকে রেভিনিউ বা উপার্জনে রূপান্তর করতে চাইছে।
তবে কুনালের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, ১৫-১৬ বছর বয়সে বাবার ফার্মাসিউটিক্যাল ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এর পর মুম্বইয়ের কালবাদেবীতে একটি ১০০ বর্গফুটের ঘরে বসবাস। দিনের পর দিন রাস্তায় চানা বিক্রেতাদের খাবার খেয়েই দিন কেটেছে। তবে পড়াশোনায় ছেদ পড়েনি। উইলসন কলেজ থেকে দর্শনে বিএ পাস করেন কুনাল। তবে নার্সি মঞ্জি ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের বিজনেস কোর্স মাত্র দুই সেমিস্টার পড়েই ছেড়ে দেন। পড়াশোনা ভাল না হলেও ইন্টারনেট তাঁর সামনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
'ক্রেড'-শুরুর আগে কুনাল একটি বিপিও, মার্কেটিং সলিউশন ফার্ম এবং 'ফ্রিচার্জ' নামক একটি পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেন। যা ২০১৫ সালে তিনি স্ন্যাপডিল-এর কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর তাঁর প্রতিভা দেখে ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান তাঁকে 'ওয়াই কম্বিনেটর'-এ পার্ট-টাইম পার্টনার হিসেবে বেছে নেন।
যিনি ১৫ বছর বয়স থেকে কাজ করছেন এবং যিনি নিজেই বলেন "আমি তৈরি করা ছাড়া আর কিছু জানি না", সেই কুনাল শাহ এবার বিশ্বের বৃহত্তম মেসেজিং অ্যাপের খোলনলচে কতটা বদলে দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।















