আজকাল ওয়েবডেস্ক: লাদাখে অনুষ্ঠিত হল চতুর্থ 'প্যাংগং ফ্রোজেন লেক ম্যারাথন'। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত হওয়া এই ম্যারাথন, গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বের উচ্চতম এবং শীতলতম ম্যারাথন হিসেবে স্বীকৃত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় এবং মাইনাস ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আয়োজিত এই দৌড়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মানচিত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। 

১৩৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান  'বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি' (BNCCI)-র অধিকর্তা ঋত্বিক দাস এই আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানটিকে বাংলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ‘ব্লুপ্রিন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। 

প্রাক্তন ভারতীয় আইস হকি খেলোয়াড় চম্বা সেতানের উদ্যোগে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই ম্যারাথন একাধারে মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া ইভেন্ট, অন্যদিকে লাদাখের হিমবাহ সংরক্ষণের বার্তা বহনকারী এক পরিবেশগত পদক্ষেপ। দেশ-বিদেশের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে শীতের কঠিন সময়ে এই আয়োজন স্থানীয় হোম-স্টে মালিকদের আর্থিকভাবে উপকৃত করেছে। পাশাপাশি সৌরশক্তির ব্যবহার এবং হিমবাহের জলের সুষম ব্যবস্থাপনার মতো টেকসই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 

এই প্রসঙ্গে ঋত্বিক দাস, লাদখের পরিবেশ চিন্তাবিদ ও বৈজ্ঞানিক সোনাম ওয়াঞ্চুক এর আদর্শের কথা উল্লেখ করেছেন। বলেন, 'তিনি যেভাবে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের ধারণা প্রসারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছেন সেই আদর্শ পাথেয় করে আয়োজিত হল এই ম্যারাথন।'

ম্যারাথনের সঙ্গে মিলেমিশে আছে জলবায়ু পরিবর্তনের সতর্কবার্তাও। এ বছর লাদাখে স্বাভাবিকের তুলনায় কম তুষারপাত হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘প্যাংগং ফ্রোজেন লেক ম্যারাথন’ কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার এক প্রতীকী আহ্বান।

ঋত্বিক দাস ম্যারাথনে অংশগ্রহণের পর বাংলার ম্যারাথন আয়োজকদের টেকসই পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ক্রীড়া ইভেন্টের সঙ্গে পরিবেশগত বার্তা যুক্ত করলে তা জনমানসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর কথায়, সাগর দ্বীপ, সুন্দরবন, ঘোড়ামারা দ্বীপ এবং উত্তরবঙ্গের নদীবিধৌত সংবেদনশীল অঞ্চলগুলির সুরক্ষায় এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ক্রীড়া, পরিবেশবাদ এবং সামাজিক উন্নয়নের এই সমন্বয় ভবিষ্যতে বাংলায়ও এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।