আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি বছরের নিট ইউজি পুনঃপরীক্ষার আগে দেশজুড়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এ বার সেই সিদ্ধান্তকেই 'ভুল পদক্ষেপ' বলে চিহ্নিত করল রাঁচির দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত। কিছুদিন আগেই সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-এর 'অন-স্ক্রিন মার্কিং' বা ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির গলদ সামনে এনে যার নাম একাধিকবার উঠে এসেছে বিভিন্ন আলোচনায়।
তার মতে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র সুষ্ঠু ভাবে পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যর্থ হলে তার দায় সাধারণ মানুষের উপর চাপানো ঠিক নয়। নিট ইউজি-র আগে 'টেলিগ্রাম' ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ফলে লক্ষাধিক বৈধ ব্যবহারকারী সমস্যার সম্মুখীন হবেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সার্থক বলেন, "NTA-এর অক্ষমতার জন্য দেশজুড়ে 'টেলিগ্রাম' ব্লক করে দেওয়াটা একবারে ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ, বহু শিক্ষক এবং পেশাদারেরা পাঠ্যসামগ্রী আদান-প্রদানের জন্য এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করেন।"
সে আরও বলে, "সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মিডিয়া ব্যবহার ছাড়াও বহু ব্যবসা এবং কারিগরি প্রকল্পের জন্য স্বয়ংক্রিয় বটের মাধ্যমে গ্রাহক পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে 'টেলিগ্রাম'-এর এপিআই ব্যবহার করা যায়। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই পরিষেবা ব্যবহারে সমস্যা হবে।"
প্রসঙ্গত, মে মাসে অনুষ্ঠিত মূল নিট ইউজি পরীক্ষাটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল করা হয়। এর পর আগামী ২১ জুন পুনঃপরীক্ষার দিন স্থির করা হয়। এই পরীক্ষার ঠিক আগেই সোশাল মিডিয়ায় আবারও প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ায়। যদিও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট এবং এনটিএ এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
'টেলিগ্রাম' নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে এনটিএ-র যুক্তি, এর 'মেসেজ এডিটিং' ফিচারটিকে কাজে লাগিয়ে একদল প্রতারক প্রশ্ন ফাঁসের জাল প্রমাণ তৈরি করছে। পরীক্ষার পর পুরনো পোস্ট এডিট করে সেখানে আসল প্রশ্নপত্র আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে পোস্টের টাইমস্ট্যাম্প আগের মতোই দেখাচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্ন বাইরে চলে এসেছিল। এই বিভ্রান্তি রুখতেই আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে 'টেলিগ্রাম' ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত এই অ্যাপের 'মেসেজ এডিটিং' ফিচারটি ভারতে নিষ্ক্রিয় রাখার জন্য সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আসল নিট প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখনও তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে পি ভি কুলকার্নি (রসায়নের শিক্ষক), মনীষা মান্ধারে (জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকা) এবং মনীষা হাভালদার (পদার্থবিদ্যার শিক্ষিকা)-কে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, এরা নিজেদের বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন ফাঁসের পেছনে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন।
এছাড়াও মহারাষ্ট্রের লাতুরের এক চিকিৎসক মনোজ শিরুরে এবং পুনের এক কোচিং সেন্টারের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক তেজস হর্ষদকুমার শাহ-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রে জড়িত থাকার অপরাধে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দেশের ৪৯টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই।















