আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের দীর্ঘপাল্লার হামলা চালানোর সামরিক ক্ষমতায় বড় সাফল্য এল। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা সফলভাবে পরীক্ষা করেছে লং রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল যাকে ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ আমেরিকার বিখ্যাত তোমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ভারতীয় সংস্করণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। ওড়িশা উপকূল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম সফল উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, পরীক্ষায় সমস্ত প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনীতে আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির আগে আরও কয়েকটি পরীক্ষা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে প্রায় দু’বছর সময় লাগতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য পাল্লা ১,০০০ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার। ফলে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে পাকিস্তান ও চিনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক, প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র ভারতের আঘাতের আওতায় চলে আসতে পারে।


এই ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। একাধিক গবেষণাগার এবং শিল্প সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এটি তৈরি হয়েছে। এটি মূলত ‘নির্ভয়’ ক্রুজ মিসাইল প্রকল্পের উন্নত সংস্করণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্ভয় প্রকল্পে একাধিক পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এর অন্যতম বড় সুবিধা হল এর বহুমুখী ব্যবহার। এটি স্থলভিত্তিক লঞ্চার, যুদ্ধজাহাজ কিংবা সাবমেরিন—সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। পাশাপাশি এতে প্রচলিত বিস্ফোরক ওয়ারহেডের পাশাপাশি প্রয়োজনে পারমাণবিক ওয়ারহেডও বহন করার সক্ষমতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যালিস্টিক মিসাইলের মতো মহাকাশে উঠে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে না। বরং এটি ভূমির খুব কাছ দিয়ে অত্যন্ত কম উচ্চতায় উড়ে যায়। ফলে শত্রুপক্ষের রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে এটিকে শনাক্ত করতে পারে না। এই বৈশিষ্ট্যই একে অত্যন্ত কার্যকর স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রে পরিণত করেছে।


সাম্প্রতিক অপারেশন সিন্দুর, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান সংঘাত দেখিয়েছে যে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্রুজ মিসাইল আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। আমেরিকার তোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সম্প্রতি ইরানের তেহরানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূর থেকে সফল হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে। 


ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ণ ক্ষমতায় মোতায়েন হলে পশ্চিম সীমান্তে ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ফয়সালাবাদ ও করাচি-সহ পাকিস্তানের বহু গুরুত্বপূর্ণ শহর এর আওতায় আসতে পারে। অন্যদিকে উত্তর বা পূর্ব সীমান্তে মোতায়েন করা হলে চিনের লাসা, চেংদু, উরুমকি এবং কুনমিং-এর মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহরও এর সম্ভাব্য পাল্লার মধ্যে থাকবে।

 


ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলে এই নতুন ক্রুজ মিসাইল একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র শুধু আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকেই আরও শক্তিশালী করবে না, পাশাপাশি ভবিষ্যতের যেকোনও সংঘাতে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।