আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন করদাতারা। ৩১ জুলাই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ, আয়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা এবং বিভিন্ন তথ্য যাচাই করার কাজ চলছে জোরকদমে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সামান্য ভুলও ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। ভুল তথ্য দিলে আয়কর বিভাগের নোটিস, রিফান্ডে দেরি কিংবা রিটার্ন স্ক্রুটিনির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
2
12
বর্তমানে আয়কর বিভাগ করদাতাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে Annual Information Statement, Taxpayer Information Summary, Form 26AS, ব্যাঙ্ক, ব্রোকার, মিউচুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করছে। ফলে রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারি রেকর্ডে কোনও অমিল থাকলে তা সহজেই ধরা পড়ে।
3
12
এদিকে, কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ জানিয়েছে যে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে কয়েক ধরনের রিটার্ন বাধ্যতামূলকভাবে স্ক্রুটিনির আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে পুনর্মূল্যায়নের নোটিস পাওয়া করদাতা, সার্চ ও সার্ভে-সংক্রান্ত মামলা, উচ্চমূল্যের কর-বিতর্ক, নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পরও করছাড় দাবি করা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া সংক্রান্ত মামলা।
4
12
যদিও এই ধরনের স্ক্রুটিনি নির্দিষ্ট কিছু করদাতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তবুও সাধারণ করদাতারাও নোটিস পেতে পারেন যদি রিটার্নে দেওয়া তথ্য এবং আয়কর বিভাগের কাছে থাকা তথ্যের মধ্যে অমিল থাকে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ বিষয় মাথায় রাখলে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
5
12
AIS, TIS ও Form 26AS-এর সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নিন
ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের তথ্য, Form 26AS, AIS এবং TIS-এর তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। কোনও অমিল থাকলে তা আগে থেকেই সংশোধন করুন।
6
12
অনেকেই ভুল ITR ফর্ম বেছে নেন। বিশেষ করে যাদের ক্যাপিটাল গেইন, বিদেশি আয় বা বিদেশে সম্পত্তি রয়েছে, তাঁদের সঠিক ফর্ম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
7
12
কোনও আয়ের উপর TDS কাটা না হলেও সেই আয় রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে। সব উৎস থেকে প্রাপ্ত করযোগ্য আয় সঠিকভাবে প্রকাশ করা জরুরি।
8
12
শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, জমি বা অন্য কোনও সম্পদ বিক্রি করে লাভ বা ক্ষতি হলে তা ব্রোকার স্টেটমেন্ট এবং AIS-এর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।
9
12
বিদেশি সম্পদ ও ডিজিটাল সম্পদের তথ্য লুকাবেন না
বিদেশে সম্পদ, বিদেশি আয়, ভার্চুয়াল ডিজিটাল অ্যাসেট এবং প্রয়োজন হলে Schedule AL-এর তথ্যও সঠিকভাবে জানাতে হবে।
10
12
বাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণে বড় খরচ, বড় অঙ্কের নগদ জমা, ক্রেডিট কার্ডে বেশি খরচ বা বিদেশে টাকা পাঠানোর মতো লেনদেন আয়কর বিভাগের নজরে থাকে। তাই আয়ের সঙ্গে এসব ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।
11
12
বড় আর্থিক লেনদেনের সব প্রমাণ ও নথি সংরক্ষণ করে রাখুন। ভবিষ্যতে আয়কর বিভাগ ব্যাখ্যা চাইলে এগুলি কাজে লাগবে। রিটার্ন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করুন। তা না হলে রিটার্ন প্রক্রিয়াকরণে দেরি হতে পারে এবং রিফান্ডও আটকে যেতে পারে।
12
12
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, 'Submit' বোতামে ক্লিক করার আগে অন্তত একবার পুরো রিটার্ন ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। সব উৎসের আয় উল্লেখ হয়েছে কি না, AIS ও Form 26AS-এর সঙ্গে তথ্য মিলছে কি না এবং প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে রয়েছে কি না—এসব নিশ্চিত করলেই ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় নোটিস বা জটিলতা এড়ানো সম্ভব।