আজকাল ওয়েবডেস্ক: মন্দিরের দানবাক্স খুলতেই চক্ষুচড়ক। ঝাড়খণ্ডের বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরের দানবাক্সগুলো খোলার পর কর্তৃপক্ষ সেখানে ৩২ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় মুদ্রার সঙ্গেই ৯,০০০-এর বেশি নেপালি মুদ্রা, ১১ মার্কিন ডলার, ১০০ পাকিস্তানি রুপি এবং ২০ ইউরো খুঁজে পেয়েছে।

দেওঘরের বিখ্যাত 'দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ' বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরের দানবাক্সে পাকিস্তানি মুদ্রা পাওয়ার ঘটনা এই প্রথম বলে জানিয়েছেন জেলা শাসক নমন প্রিয়েশ লাকরা।

মন্দির প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মোট ১৮টি দানবাক্স খোলা হয়। সেগুলোতে ৩২,১৪,২৪৫ টাকা মিলেছে। 

ভারতের বিভিন্ন প্রান্ততো বটেই, বিদেশ থেকেও আগত হাজার হাজার ভক্ত 'দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের' অন্যতম বাবা বৈদ্যনাথ মন্দিরে পূজা-অর্চনা করতে আসেন। নাম-পরিচয় গোপন রেখে অনেক ভক্ত মন্দিরের প্রাঙ্গণে রাখা দানবাক্সগুলোতে অর্থ দান করেন। বিদেশি ভক্তরাই অসাবধনতায় ভিন দেশের মুদ্রা দানবাক্সে দিয়েছেন বলে মনে হয়।

দেওঘরের বাবা বৈদ্যনাথ ধাম হিন্দু আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে। এই মন্দির কেবল ভগবান শিবের সবচেয়ে পবিত্র আবাসস্থল—'দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের'—অন্যতমই নয়, বরং এটা ৫১টি 'শক্তি পীঠের'ও একটি। যার ফলে বৈদ্যনাথ ধাম শিব ও শক্তি - উভয়ের উপাসনার এক বিরল মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, দেওঘরই সেই স্থান যেখানে রাবণ ভগবান শিবকে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পথে যাত্রাবিরতি করেছিলেন। যা ছিল তাঁর ওপর আরোপিত 'যাত্রাপথে কোথাও না থামা'-র শর্তের লঙ্ঘন। এর ফলে দেবতা শিব সেখানেই অবস্থান করেন এবং স্থানটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রে পরিণত হয়।