আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের পশ্চিম সমুদ্রসীমান্তে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব সাফল্য ভারতের। গুজরাটের কচ্ছ উপকূল থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১০০ কেজিরও বেশি কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। গুজরাটের সন্ত্রাসদমন বাহিনী (এটিএস) এবং ভারতীয় উপকূলরক্ষা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে এই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। এমনই জানা গিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে।
জানা গিয়েছে, পাকিস্তান সংলগ্ন 'পোর্ট কাসিম' থেকে আসা একটি ইউরোপীয় জাহাজকে প্রথমে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা বাহিনী। এরপরই কচ্ছ উপকূলে জাহাজটিতে আকস্মিক হানা দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোন পথে এই মাদক পাচার হত, কারা সাহায্য করত, এবং এর নেপথ্যে যে মূল চক্র কাজ করত, তার সন্ধানে জোরদার তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
মাদক অভিযান এবং গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানাতে আজ দুপুরেই গুজরাটের পুলিশের ডিজিপি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন বলে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পশ্চিম সামুদ্রিক সীমান্তে এটিই অন্যতম বৃহত্তম মাদকবিরোধী অভিযান হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয়, গত এক সপ্তাহের মধ্যে ভারতে এটি তৃতীয় বড় কোকেন উদ্ধারের ঘটনা। এর আগে মুম্বই বিমানবন্দরে আরও দু'টি বড়সড় মাদকর চালানচক্র ধরা পড়েছিল।
গত ২৩ মে মুম্বই বিমানবন্দরে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে আসা এক দম্পতিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তাঁরা পেট ভরে ক্যাপসুলের মাধ্যমে মাদক পাচারের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের সহায়তায় তাঁদের পেট থেকে ১.৪০ কেজি ওজনের ৮৪টি কোকেনের ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। তার ঠিক আগেই ১৯ মে একই জায়গা থেকে আসা অপর দুই আফ্রিকান নাগরিককে (একজন পুরুষ ও একজন নারী) আটক করা হয়। তাঁদের শরীর থেকেও ৪.২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৮৫০ গ্রাম ওজনের ৬৩টি কোকেনের ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে আটক হওয়া এই চারজনকেই ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একের পর এক আন্তর্জাতিক মাদক চালানের এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের তদন্তকারীরা। আন্তর্জাতিক এই মাদক চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।















