আজকাল ওয়েবডেস্ক: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছেন বিরোধীরা। সংসদে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হয়েছে। সংসদে কোন পথে এগোবেন বিরোধীরা, তার দিকনির্দেশ ঠিক করতে সোমবার অধিবেশন শুরুর আগেই বৈঠক সারে বিরোধী জোটের দলনেতারা। সেখানেই ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্পিকারের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ? সংসদে বাজেট অধিবেশনে নানাভাবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছে মোদি সরকার। বলতে দেওয়া হয়নি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে। প্রথমবার লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের জবাবী ভাষণ দিতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই হইচই চলছে সংসদে। কয়েকজন মহিলা সাংসদ প্ল্যাকার্ড হাতে প্রধানমন্ত্রীর আসন ঘিরে ধরেছিলেন। যদিও তখন তিনি সেখানে ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রীর ওপর 'হামলার' অভিযোগটি আরও একটি বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেউ হাত তুলবে, তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করবে, বা এমন কিছু করবে - এর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এমন কোনও পরিকল্পনা ছিল বলে কেউ বললে তা সম্পূর্ণ ভুল। প্রধানমন্ত্রী এখন স্পিকারের আড়ালে লুকিয়ে আছেন... তাঁর (প্রধানমন্ত্রীর) সাহস নেই...।"
সূত্র জানিয়েছে, এই অনাস্থা প্রস্তাবে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে তিনটি বিষয় তুলে ধরা হবে, যার শুরুটা হবে গত সপ্তাহের বিতর্ক দিয়ে — অর্থাৎ, বিড়লা বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের অংশবিশেষ পড়তে অনুমতি দেননি।
এই প্রস্তাবে স্পিকারের পূর্ববর্তী নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেকে বই থেকে পাঠ করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হবে - যেখানে কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
সেই সময় সভাপতিত্বে থাকা টিডিপি-র কৃষ্ণা তেন্নেটি দুবেকে থামতে বললেও বিজেপি সাংসদ তা শোনেননি। বিরোধীরা দুবের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জেনারেল নারাভানের বইয়ের অংশগুলো ২০২০ সালে লাদাখে ভারত-চীন সীমান্ত অচলাবস্থা সম্পর্কিত ছিল। গান্ধী এবং বিরোধীরা দাবি করেছিলেন যে, এই অংশগুলো কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
তবে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ সিনিয়র বিজেপি সাংসদ এবং দলের প্রধান জেপি নাড্ডা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বিড়লা তাঁদের সমর্থন করেন। প্রথমে গান্ধীকে বলা হয়েছিল যে অপ্রমাণিত নথি সংসদীয় রেকর্ডের অংশ হতে পারে না। এরপর তিনি বিষয়বস্তুর নির্ভুলতার দায় স্বীকার করে একটি নোট জমা দেন, কিন্তু তারপরেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই অচলাবস্থার ফলে তীব্র প্রতিবাদ ও বারবার অধিবেশন মুলতবি হয়।
মঙ্গলবার হিবি ইডেন, অমরিন্দর রাজা ওয়ারিং এবং মানিকম ঠাকুর-সহ আটজন কংগ্রেস সাংসদকে অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। ওয়ারিং সংবাদ মাধ্যমে বলেন, "রাহুল গান্ধীকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি... যদিও তিনি নথিটি প্রমাণ করেছিলেন... আমরা এর প্রতিবাদ করেছি এবং কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলেছি। এটা কি এমন কোনো অপরাধ যার জন্য সাসপেনশন প্রয়োজন?"
সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা আজ সংসদের মূল ভবনের বাইরে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করেন, যেখানে লেখা ছিল: "তোমরা আমাদের সাসপেন্ড করতে পারো, কিন্তু আমাদের চুপ করাতে পারবে না"।
বিজেপির মৎস্য প্রতিমন্ত্রী এসপি সিং বাঘেল এর জবাবে বলেন, "স্পিকার একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং তিনি তথ্যের ভিত্তিতে বিরোধী সাংসদদের সম্পর্কে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। গত কয়েকটি অধিবেশনে আমরা দেখেছি যে বিরোধী সাংসদরা ক্রমশ আগ্রাসী হয়ে উঠছেন এবং প্রতিবাদের সময় যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত।"
বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর রাহুল গান্ধীকে "গণতন্ত্রকে অপমান করার" জন্য তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সোমবার সকালে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বৈঠকে বসেন বিরোধী জোটের সাংসদ ও নেতারা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার উপ-দলনেতা সাংসদ শতাব্দী রায়। বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও।
















